মো আলম, বান্দরবান প্রতিনিধি:
বান্দরবানের পাহাড়ি বনাঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো বাঁশঝাড় ধ্বংসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিবেশবিদ ও স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিরিক্ত আহরণ এবং অপরিকল্পিতভাবে কচি বাঁশ বা বাঁশের কোরল সংগ্রহের কারণে নতুন বাঁশ জন্ম নিতে পারছে না।
ছবিতে দেখা যাচ্ছে বাজারে স্তূপ করে রাখা হয়েছে কচি বাঁশের কোরল। এগুলোই কয়েক মাসের মধ্যে বড় বাঁশে পরিণত হয়ে বনকে সচল রাখতো। কিন্তু চাহিদা বাড়ার কারণে পরিপক্ব হওয়ার আগেই কেটে ফেলা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, ৩টি প্রধান কারণে বান্দরবানের বাঁশ বন হুমকিতে:
খাবার ও ব্যবসার জন্য কচি বাঁশ কোরল ব্যাপকভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে। গাছ বড় হওয়ার সুযোগই পাচ্ছে না।
নতুন জুম ও বসতি স্থাপনের জন্য পুরনো বাঁশঝাড় কেটে ফেলা হচ্ছে।
প্রাকৃতিক প্রজনন বাধা বাঁশ ফুল-ফল দিয়ে বীজ থেকে নতুন চারা হয়। কিন্তু গোড়া থেকে চারা গজানোর আগেই কেটে ফেলায় বংশবিস্তার থেমে যাচ্ছে।
বাঁশ শুধু খাবার না, এটি পাহাড়ের মাটি ধরে রাখে, বন্যপ্রাণীর খাবার ও আশ্রয় দেয়। বাঁশ কমে গেলে ভূমিধস, জীববৈচিত্র্য হ্রাস এবং স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবিকার সংকট বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বান্দরবানের একজন বন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বাঁশ কাটার জন্য মৌসুম ও নিয়ম আছে। কিন্তু অনেকে তা মানছে না। এখনই নিয়ন্ত্রণ না করলে ৫-৭ বছরের মধ্যে কিছু এলাকায় বাঁশঝাড় একদম শেষ হয়ে যাবে।”
সমাধানে কী করা যায়?
পরিবেশবিদরা ৩টি প্রস্তাব দিয়েছেন: নিয়ন্ত্রিত আহরণ বছরের নির্দিষ্ট সময় ছাড়া কচি কোরল কাটা বন্ধ করা কৃত্রিম চারা রোপণ বন বিভাগ ও স্থানীয়দের নিয়ে বাঁশের চারা লাগানো কর্মসূচি।
স্থানীয় বাজার ও কমিউনিটিতে টেকসই সংগ্রহ নিয়ে প্রচার বাঁশকে বলা হয় “গরীবের কাঠ”। খাবার, ঘরবাড়ি, হস্তশিল্প সবকিছুতেই এর ব্যবহার। তাই বন বাঁচাতে এখনই টেকসই উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বান্দরবানের সাধারণ মানুষ।

