ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রপ্তানি করিডরগুলো বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানির সুবিধা সবাই পাবে, অন্যথায় কেউই পাবে না।
এর আগে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় ইরান। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি বন্দরের ওপর নতুন করে অবরোধ আরোপ করে। বিশ্লেষকদের ধারণা, আইআরজিসির সাম্প্রতিক বক্তব্যের মাধ্যমে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকা বাব-এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধেরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্ত করা এই প্রণালিটি বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। বিশেষ করে সৌদি আরবের বিপুল পরিমাণ তেল রপ্তানি এ পথ দিয়েই হয়ে থাকে।
ইরানের সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানায়, হুতিদের এক জ্যেষ্ঠ নেতা সতর্ক করেছেন, ইয়েমেনে সৌদি আরবের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে তারা বাব-এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। তার দাবি, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
এদিকে, সৌদি আরবের বিমান হামলার অভিযোগ এনে হুতিরা পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর ফলে কয়েক বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতির অবসান হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, গত এক সপ্তাহে ইরান সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যাতে কয়েকজন নাবিক নিহত, আহত ও নিখোঁজ হয়েছেন। এর পরপরই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড হরমুজ প্রণালির আশপাশ ও ইরানের উপকূলীয় কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে।
আইআরজিসি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। ইরানের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, মার্কিন হামলার জবাবে বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের কয়েকটি স্থাপনায় তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
তবে সংঘাতের পরিস্থিতি নিয়ে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

