বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইউরোপের দুই পরাশক্তির লড়াইয়ে আধিপত্য দেখিয়েছে স্পেন। পুরো ম্যাচে বলের নিয়ন্ত্রণ, সংগঠিত রক্ষণ এবং ধারাবাহিক প্রেসিংয়ে ফ্রান্সকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে ২-০ গোলের জয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লা রোজা।
ডালাস স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় স্পেন। ফ্রান্সের আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল অলিসের মতো তারকা থাকলেও তাদের কার্যকর আক্রমণ গড়ে তোলার সুযোগই দেয়নি স্প্যানিশ মিডফিল্ড। রদ্রি, ফ্যাবিয়ান রুইজ ও দানি ওলমোর নেতৃত্বে মাঝমাঠে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে স্পেন।
ম্যাচের ২২ মিনিটে লামিনে ইয়ামালের তৈরি করা আক্রমণে পেনাল্টি পায় স্পেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মিকেল ওয়ারিয়াসাবাল দলকে এগিয়ে দেন। গোল হজমের পর ফ্রান্স আক্রমণের চেষ্টা করলেও স্পেনের সুসংগঠিত রক্ষণ তাদের প্রতিটি প্রচেষ্টা ভেস্তে দেয়।
বিরতির পরও একই চিত্র। বলের দখল ধরে রেখে ধৈর্যের সঙ্গে আক্রমণ চালাতে থাকে স্পেন। ৫৮ মিনিটে দানি ওলমোর সঙ্গে দারুণ ওয়ান-টু পাসের পর পেদ্রো পোরো ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রেখে সহজেই জয় নিশ্চিত করে স্প্যানিশরা।
রয়টার্স তাদের ম্যাচ বিশ্লেষণে স্পেনের পারফরম্যান্সকে ‘অ্যানাকোন্ডা গ্রিপ’-এর সঙ্গে তুলনা করেছে। অর্থাৎ, যেমন একটি অ্যানাকোন্ডা ধীরে ধীরে শিকারকে চেপে ধরে নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগ দেয় না, তেমনি স্পেনও বলের দখল, প্রেসিং ও পজিশনাল ফুটবলের মাধ্যমে ফ্রান্সকে ম্যাচে ফিরে আসার কোনো সুযোগ দেয়নি। ফরাসিরা পুরো ম্যাচে মাত্র দুটি শট লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়।
বিশেষ করে এমবাপ্পেকে কার্যকরভাবে আটকে রাখে স্পেনের রক্ষণ। ফ্রান্সের দ্রুতগতির আক্রমণভাগকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে প্রতিটি আক্রমণ মাঝমাঠেই থামিয়ে দেয় তারা। ফলে ফরাসিরা নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতেই পারেনি।
এই জয়ের মাধ্যমে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল করল স্পেন। এখন তারা ফাইনালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ীর। অন্যদিকে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার আশা শেষ হয়ে গেল দিদিয়ের দেশমের শিষ্যদের। তারা এখন খেলবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ।

