মোঃখায়রুল ইসলাম, গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরিশালের গৌরনদীতে নারিকেল ও নিম গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে বাটাজোর ইউনিয়নের নতুন খনন করা সরিকল—বাটাজোর খালের তীরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর গৌরনদীতে পৌঁছালে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। খালের দুই পাশে স্থানীয় বাসিন্দা, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে করতালি ও স্লোগানের মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে নারিকেল ও নিম গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং দলীয় নেতারা।
চারা রোপণের পর অনুষ্ঠানস্থলে নির্মিত মঞ্চে আয়োজিত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, গাছ লাগানোই শেষ কথা নয়, প্রতিটি গাছের যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ুর ভারসাম্য বজায় রাখা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষকে বৃক্ষরোপণ আন্দোলনের অংশ হতে হবে। একটি গাছ একটি প্রাণ—এই উপলব্ধি থেকেই সবাইকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
পরে প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ডধারী উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি তাদের কাছে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ—সুবিধা, ভর্তুকি, খাদ্য সহায়তা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা সঠিকভাবে পাচ্ছেন কি না, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেন। উপকারভোগীরাও তাদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে এবং নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো আরও কার্যকর ও সম্প্রসারিত করা হবে।
নারী শিক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি মেয়ের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। মেয়েদের স্নাতক (ডিগ্রি) পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে, যাতে কোনো মেয়ে অর্থাভাবে পড়াশোনা থেকে ঝরে না পড়ে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় জনগণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং পরবর্তী কর্মসূচির উদ্দেশ্যে গৌরনদী ত্যাগ করেন।

