দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুর ফুলবাড়ীতে ধানের জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে এক কৃষকের ছেলে নিহত হয়েছেন এবং তার বাবা গুরুতর আহত হয়েছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বেতদিঘী ইউনিয়নের ভাটপাইল নয়াপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত গোলাপ হোসেন (৩৫) ওই গ্রামের বাসিন্দা মো. মোখলেছার রহমানের ছেলে।
পরিবার সুত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে বাবা মোখলেছার রহমান ও বড় ছেলে মো. গোলাপ হোসেন নিজস্ব ধানের জমিতে কৃষিকাজ করছিলেন। সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা ছিল। একপর্যায়ে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে তীব্র বজ্রপাত হয়। বজ্রপাতের আঘাতে বাবা-ছেলে দুজনই ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক গোলাপ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে গুরুতর আহত মোখলেছার রহমানের অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রতিবেশী রফিকুল ইসলাম জানান, সকালে আবহাওয়া হঠাৎ বৈরী হয়ে পড়ে। বৃষ্টি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিকট শব্দে বজ্রপাত হলে বাবা-ছেলে দুজনই বজ্রাঘাতে আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে ছেলের মৃত্যু হয়, আর বাবা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বেতদিঘী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান মণ্ডল বলেন, ভাটপাইল নয়াপাড়া গ্রামের মোখলেছার রহমান ও তার ছেলে গোলাপ হোসেন ধানের জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতের শিকার হন। ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। পরিবারটি এখন গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে।
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ শাহ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মিজানুর রহমান জানান, বজ্রপাতে মৃত্যুর বিষয়টি জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়কে অবহিত করা হয়েছে। সরকারি বিধি-বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নিহতের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ হাছান বলেন, বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে নিহতের পরিবারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

