সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে পাকিস্তানের করাচির উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া একটি মালবাহী উড়োজাহাজ পাঁচজন ক্রুসহ আরব সাগরের ওপর নিখোঁজ হয়েছে। বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো ব্যাপক তল্লাশি চালালেও এখন পর্যন্ত কোনো ধ্বংসাবশেষ কিংবা জীবিত ব্যক্তির সন্ধান মেলেনি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে কে২ এয়ারওয়েজ পরিচালিত বোয়িং ৭৩৭-৪০০ কার্গো উড়োজাহাজটির সঙ্গে করাচি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের যোগাযোগ হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (পিএএ) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ৯টা ১৮ মিনিটে পাইলট নেভিগেশন সিস্টেমে ত্রুটির কথা নিয়ন্ত্রণ কক্ষকে জানান। সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিমানটি রাডারের পর্দা থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঠিক আগে বিমানটি করাচি উপকূল থেকে প্রায় ২৮৭ কিলোমিটার পশ্চিমে আরব সাগরের আকাশসীমায় অবস্থান করছিল।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং সেবা ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য বলছে, শেষ মুহূর্তে বিমানটির উচ্চতায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যায়। অল্প সময়ের ব্যবধানে এটি কয়েক হাজার ফুট নিচে নেমে যায়, পরে আবার কিছুটা উচ্চতায় উঠলেও শেষ পর্যন্ত প্রায় ৩৬ হাজার ৫৫০ ফুট উচ্চতা থেকে দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করে।
সর্বশেষ রাডার তথ্যে দেখা যায়, বিমানটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০ ফুট উচ্চতায় ছিল এবং প্রতি মিনিটে প্রায় ২২ হাজার ৪০০ ফুট গতিতে নিচের দিকে নামছিল, যা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত অস্বাভাবিক হিসেবে তুলে ধরে।
এপি-বিওআই নিবন্ধিত বোয়িং ৭৩৭-৪০০ (বিডিএসএফ) মডেলের এই উড়োজাহাজটি ২০২৪ সালে কে২ এয়ারওয়েজের বহরে যুক্ত হয়। ১৯৯৯ সালে এটি প্রথম যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে রাশিয়ার অ্যারোফ্লটের বহরে যুক্ত হয়েছিল। পরে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সে পরিচালিত হওয়ার পর ২০১২ সালে এটিকে মালবাহী উড়োজাহাজে রূপান্তর করা হয়।
নিখোঁজ উড়োজাহাজ এবং পাঁচ ক্রু সদস্যের সন্ধানে আরব সাগরে নৌ ও আকাশপথে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত বিমানটির কোনো ধ্বংসাবশেষ বা আরোহীদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

