মো আলম, বান্দরবান প্রতিনিধি:
টানা ভারী বর্ষণে তছনছ হয়ে গিয়েছিল পার্বত্য জনজীবন। বান্দরবানের অত্যন্ত দুর্গম থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়কসহ একাধিক এলাকায় একের পর এক পাহাড় ধসে যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিত্যদিনের চলাচল, ওষুধ ও খাবার সরবরাহ।
ঠিক এমন সংকটময় মুহূর্তে আবারও প্রমাণ হলো, দুর্যোগে জনগণের শেষ ভরসার নাম বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
খবর পাওয়ার পরপরই দায়িত্ব নেয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। সময় নষ্ট না করে ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে দুর্গম পাহাড়ি পথে নেমে পড়েন সেনাসদস্যরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ধসে পড়া মাটি ও পাথর অপসারণের কাজ শুরু হয় যুদ্ধকালীন তৎপরতায়।
কয়েক ঘণ্টার অক্লান্ত পরিশ্রমের পর থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়কে যান চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়। খুলে যায় পার্বত্য অঞ্চলের সাথে দেশের বাকি অংশের সংযোগ।
দুর্গম পাহাড়, পিচ্ছিল রাস্তা আর বৈরী আবহাওয়াকে তোয়াক্কা না করে সেনাবাহিনীর এই দ্রুত ও ক্লান্তিহীন তৎপরতায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মাঝে। ওষুধ, চাল-ডালসহ জরুরি পণ্যবাহী গাড়িগুলো আবার চলতে শুরু করায় থেমে যাওয়া জনজীবন ফের প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
দুর্যোগ, বন্যা, পাহাড় ধস কিংবা যেকোনো জাতীয় সংকটে বারবার সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বান্দরবানের এই ঘটনা তারই আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।

