২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ঘিরে চলা বিতর্কে অবশেষে মুখ খুলেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি স্বীকার করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ফোন করেছিলেন। তবে সেই ফোনকলের সঙ্গে ফিফার সিদ্ধান্তের কোনো সম্পর্ক নেই।
ইনফান্তিনো বলেন, ট্রাম্প তার সঙ্গে যোগাযোগ করে বালোগুনের লাল কার্ডের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলেন। জবাবে তিনি ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, ফিফার বিচারিক ও শৃঙ্খলা বিষয়ক সংস্থাগুলো সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং কোনো ব্যক্তি, এমনকি ফিফা সভাপতিও তাদের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে পারেন না।
এই বিতর্কের সূত্রপাত যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ম্যাচে। ওই ম্যাচে বালোগুন সরাসরি লাল কার্ড দেখেন, ফলে নিয়ম অনুযায়ী পরের ম্যাচে তার এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরে ফিফা তাদের শৃঙ্খলা বিধির অনুচ্ছেদ ২৭ প্রয়োগ করে ওই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে। ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে খেলার সুযোগ পান বালোগুন।
ফিফার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, অনুচ্ছেদ ২৭ অনুযায়ী বিশেষ পরিস্থিতিতে শাস্তির বাস্তবায়ন স্থগিত করার ক্ষমতা বিচারিক কমিটির রয়েছে। এই ধারার আওতায় বালোগুনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হলেও লাল কার্ডটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি। বরং এক বছরের জন্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে একই ধরনের গুরুতর অপরাধ করলে স্থগিত থাকা শাস্তিও কার্যকর হতে পারে।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে, তিনি ইনফান্তিনোকে ফোন করেছিলেন। তবে তার দাবি, তিনি কোনো চাপ সৃষ্টি করেননি; শুধু একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলেন। ট্রাম্পের ভাষায়, তিনি চেয়েছিলেন যাতে “ন্যায্য বিচার” নিশ্চিত হয়।
তবে এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইউরোপের বেশ কয়েকটি ফুটবল সংস্থা। বিশেষ করে বেলজিয়াম ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং উয়েফা অভিযোগ করেছে, ফিফা নজিরবিহীনভাবে নিজেদের নিয়ম ভেঙেছে এবং এতে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
সমালোচনার জবাবে ইনফান্তিনো আবারও জোর দিয়ে বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ফোনকল পেলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফার স্বাধীন বিচারিক সংস্থা। তাদের রায়কে তিনি সম্মান করেন এবং ভবিষ্যতেও ফিফার শৃঙ্খলা প্রক্রিয়ার স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন থাকবে।

