মো:ইলিয়াস সানি,তজুমদ্দিন, ভোলা, প্রতিনিধি:
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় চাঁদার দাবি পূরণ না করায় এক নারী ও এক পুরুষকে প্রকাশ্যে জুতার মালা পরিয়ে অপদস্থ এবং মারধরের অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
থানা পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহে আলম (৫৮)-এর কাছে সরকারি আবাসনের ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে এক সময়ের মেঘনার জলদস্যু দুলাল বাহিনীর প্রধান, দুলাল প্রধানের ছেলে সজিব। অভিযোগ রয়েছে, শাহে আলম চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে সজিব ও তার সহযোগীরা।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৬ জুলাই সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শাহে আলম ব্যক্তিগত কাজে স্থানীয় ইউপি সদস্য শহীদ মেম্বারের বাড়িতে যান। একই সময়ে তাসলিমা বেগম (৫০) নামের এক নারীও ব্যক্তিগত কাজে সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় সজিবের নেতৃত্বে শরীফ জমাদার, ভেট্টো, সুমন ভুলাই, মহিউদ্দিন মাঝি, সবুজ ভুলাই, রুবেল, সিদ্দিক, জুয়েলসহ কয়েকজন তাদের অসামাজিক কর্মকাণ্ডের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে পুনরায় এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাদের মারধর করে এবং জোরপূর্বক জুতার মালা পরিয়ে জনসম্মুখে অপমান ও হেনস্তা করে। পরে ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শাহে আলম বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে তজুমদ্দিন থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০৩)। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররা হলেন সজিব (২৮), রাকিব ওরফে ভেট্টো, রায়হান (১৯) ও রাসেল (২১)। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এর আগে কোরবানির ঈদের আগে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাসাননগর ইউনিয়নের বাসিন্দা জিল্লুর রহমানকে চাঁদার দাবিতে প্রকাশ্যে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে সোনাপুর আবাসন এলাকার এক নারীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে সজিবের বিরুদ্ধে। ওই নারী প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধরের অভিযোগও ওঠে।
স্থানীয়দের দাবি, সজিবের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি একসময় মেঘনা নদীর কুখ্যাত জলদস্যু দুলাল বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে মামলা রুজু হয়েছে। ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

