বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মহারণে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইতিহাস গড়তে থাকা মিশর। ম্যাচ শুরুর আগেই দুই দলের শিবিরে চলছে মানসিক লড়াই। একদিকে মিশরের সহকারী কোচ ইব্রাহিম হাসানের সাহসী মন্তব্য, অন্যদিকে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত—সব মিলিয়ে উত্তাপ ছড়িয়েছে ম্যাচ-পূর্ব আলোচনা।
মিশরের সহকারী কোচ ইব্রাহিম হাসান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা মেসিকে নিয়ে ভাবছি না। ওদের মেসি আছে, কিন্তু আমাদের আছে মোহাম্মদ সালাহ, আর আমাদের দলে ২৬ জন মেসি আছে।” তাঁর এই মন্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল ফুটবলারদের মনে প্রতিপক্ষকে নিয়ে ভয় না ঢুকতে দেওয়া এবং দলগত শক্তির ওপর আস্থা বাড়ানো।
হাসান আরও বলেন, তাদের লক্ষ্য শুধু অংশগ্রহণ নয়, বরং বিশ্বকাপে যতদূর সম্ভব এগিয়ে যাওয়া। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ার পর আত্মবিশ্বাসে ভরপুর মিশর এখন আর কোনো প্রতিপক্ষকেই অজেয় মনে করছে না।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি জানিয়েছেন, অধিনায়ক লিওনেল মেসি পুরোপুরি ফিট আছেন এবং খেলার জন্য প্রস্তুত। তবে টানা ম্যাচ ও অতিরিক্ত সময় খেলার কারণে দলে কিছু পরিবর্তন আনার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। মূল একাদশে কয়েকটি পজিশনে রদবদল হতে পারে, যাতে দল সতেজ থাকে এবং নকআউট পর্বের চাপ সামলাতে পারে।
এই ম্যাচকে ঘিরে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নিঃসন্দেহে লিওনেল মেসি বনাম মোহাম্মদ সালাহ। দুই কিংবদন্তি ফুটবলারের এটি বিশ্বকাপে সম্ভবত শেষ বড় মঞ্চ। মেসি ইতোমধ্যেই দুর্দান্ত ফর্মে আছেন, অন্যদিকে সালাহ মিশরকে ইতিহাসের প্রথম নকআউট জয়ে নেতৃত্ব দিয়ে আত্মবিশ্বাসের নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনা এগিয়ে থাকলেও মিশরের সংগঠিত রক্ষণ, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং সালাহ-ওমর মারমুশের গতি আর্জেন্টিনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তাই স্কালোনি কৌশলগত কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে মাঝমাঠ ও রক্ষণকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ রাখার পরিকল্পনা করছেন।
এখন দেখার বিষয়, কথার লড়াইয়ের পর মাঠের লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে—বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, নাকি বিশ্বকাপের নতুন রূপকথা লিখতে নামা মিশর।

