ঘুমের সময় ঘাড় ও মেরুদণ্ডকে একই সরলরেখায় রেখে শরীরের স্বাভাবিক অঙ্গবিন্যাস বা পোশ্চার বজায় রাখাই হলো বালিশের মূল কাজ। তবে বালিশ ছাড়া ঘুমালে শরীরের ওপর কী প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে এখনো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণা হয়নি। ঘুমানোর অভ্যাসের ওপর ভিত্তি করে বালিশ ছাড়া শোয়ার কিছু ভালো ও মন্দ দিক রয়েছে।
কারা বালিশ ছাড়া ঘুমালে উপকার পাবেন?
আমেরিকার রচেস্টার ইউনিভার্সিটি মেডিক্যাল সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, যাঁরা উপুড় হয়ে ঘুমান, তাঁরা বালিশ ছাড়া ঘুমালে কিছু সুনির্দিষ্ট উপকার পেতে পারেন:
উপুড় হয়ে ঘুমালে মেরুদণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, কারণ মানুষের শরীরের বেশির ভাগ ওজন শরীরের মাঝখানে থাকে। বালিশ না থাকলে ঘাড় তুলনামূলকভাবে সমতলে থাকে, যা মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক বাঁক বজায় রাখতে এবং পিঠের চাপ কমাতে সাহায্য করে।
উপুড় হয়ে শোয়ার সময় মাথা যেকোনো এক পাশে ঘুরিয়ে রাখতে হয়, যার ফলে ঘাড় একটি অস্বস্তিকর কোণে চলে যায় এবং পেছনের দিকে প্রসারিত হয়ে ব্যথা হতে পারে। বালিশ ছাড়া ঘুমালে ঘাড়ের ওপর তৈরি হওয়া এই বাড়তি চাপ কিছুটা কমে আসে।

কারা বালিশ ছাড়া ঘুমালে ক্ষতির সম্মুখীন হবেন?
বালিশ ছাড়া ঘুমানোর এই সুবিধা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। চিকিৎসকদের মতে:
চিত বা কাত হয়ে ঘুমালে: যাঁরা চিত হয়ে বা এক কাত হয়ে ঘুমান, তাঁরা যদি বালিশ ব্যবহার না করেন, তবে মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক অবস্থান মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে।
চিত বা কাত হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে ঘাড় ও পিঠের সুস্থতায় সবসময় শরীরের সাথে মানানসই ও উপযুক্ত বালিশ ব্যবহার করাই শ্রেয়।
চিকিৎসকের পরামর্শ কখন জরুরি?
ঘাড়ব্যথা কমানোর ক্ষেত্রে বালিশ ছাড়া ঘুমানো কতটা কার্যকর, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মেলেনি। অধিকাংশ গবেষণায় মূলত ঘাড়ব্যথা কমাতে ‘কোন ধরনের বালিশ’ বেশি কার্যকর—সেটিই মূল্যায়ন করা হয়েছে।
তাই প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠার পর যদি আপনার নিয়মিত ঘাড় বা পিঠে ব্যথা অনুভূত হয়, তবে নিজে থেকে বালিশ বর্জন করার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

