বরিশাল নগরীর সদর রোডে একটি আবাসন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে ঢুকে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) মারধর, শারীরিক নির্যাতন এবং জোরপূর্বক চেক ও নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদর রোডের ‘অগ্রণী হাউজিং লিমিটেড’ এর কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় অগ্রণী হাউজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ হাওলাদার অফিসে অবস্থান করছিলেন। এ সময় স্থানীয় মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নামের এক ব্যক্তিসহ বেশ কয়েকজন যুবক আকস্মিকভাবে অফিসে প্রবেশ করেন। রুমে ঢুকেই তারা প্রথমে সেখানে উপস্থিত অন্যান্য লোকজনকে জোরপূর্বক বের করে দেন।
পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ ও ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্তরা ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ হাওলাদারের সামনে দুটি ব্যাংক চেক ও দুটি স্ট্যাম্প রেখে তাতে স্বাক্ষর করতে বলেন। এতে তিনি অস্বীকৃতি জানালে তাকে চড়-থাপ্পড় মারা হয় এবং এক পর্যায়ে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। বৃদ্ধ ব্যবসায়ীর চিৎকারে অফিসের অন্য সহযোগীরা এগিয়ে এলে তাদেরকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রায় ৮ মিনিট ধরে চলা এই ধস্তাধস্তি ও নির্যাতনের মুখে একপর্যায়ে ওই ব্যবসায়ী চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন।
অভিযোগ উঠেছে, স্বাক্ষর নেওয়ার পরপরই অভিযুক্তরা ওই বৃদ্ধ ব্যবসায়ীর সাথে জোরপূর্বক হাসিমুখের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে, যাতে ঘটনাটিকে স্বাভাবিক বা স্বেচ্ছায় করা হয়েছে বলে প্রমাণ করা যায়।
স্থানীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সূত্রমতে, অভিযুক্ত প্রধান ব্যক্তির নাম মোস্তাফিজুর রহমান লিটু। তিনি নগরীর কাঠপট্টি রোড এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তবে তাদের মধ্যে পূর্বের কোনো ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক বিরোধ ছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এই নির্মম ও সন্ত্রাসী কায়দায় নির্যাতনের ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি উঠেছে। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, প্রকাশ্য দিবালোকে অফিসে ঢুকে একজন প্রবীণ ব্যবসায়ীকে এভাবে নির্যাতন ও জিম্মি করার ঘটনা চরম উদ্বেগজনক।

