ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সাত দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শুক্রবার শুরু হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির তথ্য অনুযায়ী, এ উপলক্ষে বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রতিনিধি ইরানে অংশ নিয়েছেন।
শোকানুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের জন্য পৃথকভাবে পবিত্র কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত করা হয়। বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) উপস্থিত হলে তার সামনে সূরা আল-আহযাবের ২৩ নম্বর আয়াত তেলাওয়াত করা হয়।
আয়াতটির বাংলা অর্থ হলো— “মুমিনদের মধ্যে এমন অনেক ব্যক্তি আছেন, যারা আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকার সত্যভাবে পালন করেছেন। তাদের কেউ সেই অঙ্গীকার পূর্ণ করেছেন, আর কেউ অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা তাদের অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন আনেননি।”
ঘটনাটি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের এক ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সামনে তাদের নিজ নিজ প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ভিন্ন ভিন্ন কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে প্রতীকী বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে।
তার পোস্টে আরও দাবি করা হয়, সৌদি আরব, তুরস্ক, লেবানন, কাতার, ইয়েমেন এবং হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সামনেও ভিন্ন ভিন্ন আয়াত পাঠ করা হয়েছে, যেগুলোর বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্ট দেশের রাজনৈতিক বা আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন। তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
এদিকে তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও সম্মিলিত উলামা-মাশায়েখ পরিষদের মহাসচিব ড. মুহাম্মাদ খলিলুর রহমান মাদানী সূরা আল-আহযাবের ২৩ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, এই আয়াতে আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকারে অবিচল থাকা ঈমানদারদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ আল্লাহর পথে জীবন উৎসর্গ করেছেন, আবার কেউ একই আদর্শে অটল থেকে সেই পথেই অবিচল রয়েছেন।
তার মতে, যারা আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করেন, এই আয়াত তাদের দৃঢ়তা, অঙ্গীকার ও আত্মত্যাগের প্রশংসা করে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সামনে ভিন্ন ভিন্ন আয়াত পাঠের মাধ্যমে ইরান সম্ভবত প্রতিটি দেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আলাদা বার্তা তুলে ধরতে চেয়েছে। তবে এটিও তার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের সরকার বা অনুষ্ঠান আয়োজকদের পক্ষ থেকে কোন আয়াত কেন কোন প্রতিনিধিদলের সামনে তেলাওয়াত করা হয়েছে—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।

