মোঃ শরিফ বিল্লাহ, ডোমার (নীলফামারী):
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার কেতকীবাড়ী ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকায় একটি সেতু ভেঙে যাওয়ার পর দীর্ঘ সাত বছর ধরে হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটির পশ্চিম পাশে রয়েছে শান্তিনগর ও পাঠানপাড়া গ্রাম এবং পূর্ব পাশে রয়েছে দালানগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কেতকীবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়, গোমনাতী মহাবিদ্যালয় ও শহীদ জিয়া বালিকা বিদ্যালয়। সেতুটি অকেজো হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের কয়েক কিলোমিটার ঘুরে আমবাড়ী হাট হয়ে বিদ্যালয় ও কলেজে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি শিক্ষায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এলাকাবাসী জানান, ভাঙা সেতুর কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম কিবরিয়াসহ অনেক পথচারী ও শিক্ষার্থী চলাচলের সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। তবুও দীর্ঘদিনেও সেতুটি পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, ২০১০-২০১১ অর্থবছরে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ১৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। তবে নির্মাণের প্রায় ছয় বছর পর বর্ষাকালে সেতুর পাশের মাটি ধসে গিয়ে এটি ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে প্রতি বছর বাঁশের চাটাই দিয়ে অস্থায়ীভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করলেও তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সেতুটি পুনর্নির্মাণ করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কেতকীবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রশিদুল ইসলাম রোমান বলেন, “সেতুটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি। এটি নির্মিত হলে এলাকার হাজারো মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে।”

