তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে স্বাধীনতা দিবস (৪ জুলাই) উদযাপনে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে একাধিক অনুষ্ঠান বাতিল, স্থগিত কিংবা সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির একটি বড় মেলাও কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখতে বাধ্য হন আয়োজকেরা।
শুক্রবার (৩ জুলাই) আয়োজকদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, দর্শনার্থী, স্বেচ্ছাসেবক, শিল্পী, বিক্রেতা ও কর্মীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে এলে মেলাটি আবার চালু করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া সংস্থা ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, দেশটির পূর্ব উপকূল ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ১৬ কোটি ৫০ লাখ মানুষ চরম তাপপ্রবাহের প্রভাবের মধ্যে রয়েছেন। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছেছে, ফলে স্বাধীনতা দিবসের নানা আয়োজন ব্যাহত হয়েছে।
নিউ জার্সি, পেনসিলভানিয়া, মেরিল্যান্ড ও কলোরাডোসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নিরাপত্তার স্বার্থে অনুষ্ঠান বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ফিলাডেলফিয়ার ঐতিহ্যবাহী ‘স্যালুট টু ইন্ডিপেন্ডেন্স’ প্যারেডও শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়। আয়োজকেরা জানান, বিপজ্জনক আবহাওয়ায় বড় জনসমাগমের অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।
ওয়াশিংটনের ‘ফ্রিডম ২৫০’ মেলায় তাপজনিত অসুস্থতায় বেশ কয়েকজন দর্শনার্থী চিকিৎসা নেন। স্থানীয় ফায়ার অ্যান্ড ইএমএস বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১১ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের পর্যাপ্ত পানি পান, দীর্ঘ সময় রোদে অবস্থান না করা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চরম গরমের কারণে ওয়াশিংটন ডিসির জনপ্রিয় ‘অ্যা ক্যাপিটল ফোর্থ’ কনসার্টের সময়সূচিও পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খোলা আকাশের নিচেই স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার পরিকল্পনা বহাল রেখেছেন।
আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহান্তজুড়েই পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে। ফিলাডেলফিয়ায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রায় ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। উচ্চ আর্দ্রতার কারণে অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেশি হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ আগের তুলনায় আরও ঘন ঘন, দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হয়ে উঠছে। তাদের মতে, কার্বন নিঃসরণ কমানো না গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও বাড়তে পারে।

