শেখ মাসুম বিল্লাহ, রামপাল উপজেলা প্রতিনিধি,
রামপাল থানাধীন বারুইপাড়া গ্রামে জমি দখল, স্বর্ণালংকার ছিনতাই ও হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের চারজনের বিরুদ্ধে। আদালতের রায় অমান্য করে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার সময় বাধা দিলে স্বর্ণের চেন ছিনিয়ে নেয়া ও দা দিয়ে কোপানোর হুমকি দেয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযোগকারী সোহেল রানা, পিতা শেখ সালাম, সাং বারুইপাড়া গত ২ জুন ২০২৬ তারিখে রামপাল থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রামপাল থানাধীন বারুইপাড়া মৌজার এস এ খতিয়ান নং-২৫৯, দাগ নং-২২৬৮ এর ৫.৮৬ একর জমির মধ্যে ২.০৮ একর নালিশি জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। জমিটি নিয়ে সোহেল রানার পিতা শেখ সালাম বাদী হয়ে রামপাল সহকারী জজ আদালতে বাটোয়ারা মামলা করেন। মামলা নং-২৮/১৩। গত ৩০/০৬/২০২ তারিখে বিজ্ঞ আদালত মামলার রায় সোহেল রানার পিতার পক্ষে ঘোষণা করে। কিন্তু বিবাদীরা আদালতের রায় ও আদেশ অমান্য করে জমি জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা করে আসছে বলে অভিযোগে বলা হয়।
সর্বশেষ গত ২ জুন ২০২৬ তারিখ সকাল অনুমান ৯টার দিকে বিবাদীরা সোহেল রানার ভোগ দখলকৃত জমিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে সীমানার বেড়া কেটে দখলের চেষ্টা করে। এ সময় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী বাধা দিতে গেলে বিবাদীরা বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও খুন-জখমের হুমকি প্রদান করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, ০২ নং বিবাদী সোহেল রানার স্ত্রীর গলায় থাকা এক লক্ষ টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ০১ নং বিবাদী হাতে দা নিয়ে সোহেল রানাকে কোপাতে আসে। বিবাদীদের ভয়ে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন সোহেল রানা।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী শেখ সাহিদুল ইসলাম বলেন, “হুমায়ুন-ইনছানসহ কয়েকজন দা-কোদাল নিয়ে বেড়া কাটছিল। বাধা দিলে হুমায়ুন কোপ দিতে আসে। নাসরিন সোহেলের স্ত্রীর চেন ছিড়ে নেয়।” অন্য সাক্ষী খান জিন্নাত আলী বলেন, “আমি দৌড়ে গিয়ে সোহেলকে বাঁচাই। ওরা আমাদেরও গালাগালি করে চলে যায়।”
অভিযোগের বিষয়ে বিবাদী মোসাঃ নাসরিন বেগম তার বক্তব্যে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। বরং সোহেল রানারাই জোর করে আমাদের জমি দখলের চেষ্টা করছে। আমরা আদালতের রায় মেনেই চলছি। আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।”
বিবাদী হাওলাদার হুমায়ুনও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বিবাদীগণ হলেন: ১। হাওলাদার হুমায়ুন, ৮০, পিতা মৃত মুনতাজ উদ্দিন হাওলাদার ২। মোসাঃ নাসরিন বেগম, ৩৫, স্বামী হাওলাদার হুমায়ুন ৩। মোঃ ইনছান হাওলাদার, ৬৩, পিতা মৃত জুমর উদ্দিন হাওলাদার ৪। মোসাঃ ফারিয়া বেগম, পিতা হাওলাদার হুমায়ুন। সর্ব সাং বারুইপাড়া, থানা রামপাল, জেলা বাগেরহাট।
ঘটনার সাক্ষী হিসেবে অভিযোগে শেখ সাহিদুল ইসলাম, শেখ দিদারুল আলম, খান জিন্নাত আলী ও হাওলাদার নজরুলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রামপাল থানার অফিসার ইনচার্জ রাজীব আল রশিদ জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

