রেকর্ডের পর রেকর্ড ভেঙে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে দেশের বাজারে আবারও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে স্বর্ণের দাম।
মাত্র একদিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও মূল্যবান এই ধাতুর দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক লাফে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা।
আজ শুক্রবার (৩ জুলাই ২০২৬) সকালে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। নতুন এই নির্ধারিত মূল্য আজ সকাল ১০টা থেকেই দেশব্যাপী কার্যকর করা হয়েছে।দাম বাড়ার কারণ কী?বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে পাকা স্বর্ণ বা তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) সরবরাহ সংকট ও ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে।
একই সাথে আন্তর্জাতিক বাজারেও স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা ও দেশের ব্যবসায়ীদের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখতে ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন অল-টাইম হাই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।ক্যারেট অনুযায়ী ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন মূল্য তালিকা:আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দামের ছক নিচে দেওয়া হলো (ভ্যাটসহ):স্বর্ণের মান (ক্যারেট)নতুন মূল্য (প্রতি ভরি)একদিনে যতটুকু বাড়ল২২ ক্যারেট২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা৪,৩৭৪ টাকা২১ ক্যারেট২ লাখ ১৮ base,২৯২ টাকা৪,১৯৯ টাকা১৮ ক্যারেট১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা৩,৫৫৭ টাকাসনাতন পদ্ধতি১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা২,৯১৬ টাকাগতকালের (২ জুলাই) দাম কেমন ছিল?এর আগে, ঠিক একদিন আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালেও স্বর্ণের দাম এক দফা সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এছাড়া ২১ ক্যারেট ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮৩applied হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা।চলতি বছরেই ৮৬ বার দামের ওঠানামা!স্বর্ণের বাজারে এমন অস্থিরতা বাংলাদেশের ইতিহাসে আগে কখনো দেখা যায়নি।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই দাম নির্ধারণের মাধ্যমে চলতি ২০২৬ বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে রেকর্ড ৮৬ বার স্বর্ণের দামের পরিবর্তন বা সমন্বয় করা হলো। এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ৪৩ দফা, কমানো হয়েছে ৪২ দফা এবং মাত্র ১ দফা ভ্যাট সংক্রান্ত টেকনিক্যাল সমন্বয় করা হয়েছে। প্রতিনিয়ত দামের এমন রেকর্ড বৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতা ও জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের মাঝে এক ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

