কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স দ্রুত বদলে দিচ্ছে শিক্ষা, গবেষণা এবং জ্ঞানচর্চার ধরণ। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা এখন তথ্য সংগ্রহ, গবেষণাপত্রের খসড়া তৈরি, ভাষান্তর, প্রোগ্রামিং এবং জটিল বিষয় সহজে বোঝার জন্য AI-এর সহায়তা নিচ্ছেন। এতে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি শেখার নতুন সুযোগও তৈরি হয়েছে।তবে AI যদি কেবল চিন্তার বিকল্প হয়ে ওঠে, তাহলে এটি “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা” থেকে “বুদ্ধিমত্তাবিরোধী” এ পরিণত হতে পারে। অর্থাৎ, প্রযুক্তি মানুষের চিন্তাশক্তি বাড়ানোর বদলে যদি তা কমিয়ে দেয়, তবে সেটি উচ্চশিক্ষার জন্য উদ্বেগের বিষয়।
শিক্ষাবিদদের মতে, AI-কে সহকারী হিসেবে ব্যবহার করা উচিত, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসেবে নয়। শিক্ষার্থীরা যদি যাচাই-বাছাই না করে AI-এর তৈরি তথ্য বা উত্তর সরাসরি ব্যবহার করেন, তাহলে ভুল তথ্য, গবেষণায় অনিয়ম, নকলের প্রবণতা এবং মৌলিক চিন্তার অভাব দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে, সঠিকভাবে ব্যবহার করলে AI গবেষণার গতি বাড়াতে, জটিল তথ্য বিশ্লেষণে সহায়তা করতে, ভাষাগত বাধা দূর করতে এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের উচ্চশিক্ষায় AI-কে এড়িয়ে যাওয়া নয়, বরং দায়িত্বশীল, নৈতিক ও সমালোচনামূলকভাবে ব্যবহার করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ প্রযুক্তি তখনই কার্যকর, যখন তা মানুষের চিন্তা, সৃজনশীলতা এবং বিচার-বিশ্লেষণের সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে।

