কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী পরোক্ষ আলোচনা শেষ হয়েছে। বৈঠকে মূলত দুই সপ্তাহ আগে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতার বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বুধবার এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়ন এবং সুইজারল্যান্ডের লেক লুসার্নে অনুষ্ঠিত বৈঠকের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে সংলাপ অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং ইরানের জব্দ থাকা অর্থ ছাড়ের বিষয়টি। এই দুটি ইস্যু আগের অন্তর্বর্তী সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পাকিস্তান জানায়, ইরানের সদ্যপ্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর পরবর্তী বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হবে। একই তথ্য দিয়েছে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও। তাদের মতে, আগামী ৯ জুলাই দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন দফার আলোচনা শুরু হতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে অগ্রগতি হচ্ছে এবং আলোচনার পরিবেশ ইতিবাচক। তবে বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দোহার এবারের বৈঠকে পারমাণবিক ইস্যু আলোচনার বিষয় ছিল না। আলোচনা মূলত কারিগরি ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিষয়েই সীমাবদ্ধ ছিল।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও জানিয়েছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পৃথকভাবে শিগগিরই আলোচনা শুরু হতে পারে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা পৃথক কক্ষে অবস্থান করে পরোক্ষভাবে আলোচনা চালান।
অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধি দলের প্রধান ও উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বৈঠক শেষ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও দুই পক্ষের মতপার্থক্য কতটা কমেছে, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

