মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই শীর্ষ দূত। তবে কাতার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানের কোনো সরাসরি বৈঠক হবে না।উভয় পক্ষ আলাদাভাবে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করবে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার বর্তমানে দোহায় অবস্থান করছেন। তারা কাতারি কর্মকর্তাদের ও মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আঞ্চলিক পরিস্থিতি, চলমান সমঝোতা এবং নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন। তবে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা হতে পারে। কিন্তু ইরান শুরু থেকেই জানিয়ে আসছে, তারা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে না। তেহরানের অবস্থান হলো, প্রয়োজনে কাতারের মতো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি বৈঠক না হলেও এই আলোচনা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা, পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এবং ইরানের জব্দ থাকা সম্পদের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
এদিকে ইরান জানিয়েছে, তাদের প্রতিনিধিরা দোহায় থাকলেও মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই।তাদের কর্মকর্তারা বলছেন, আলোচনা হবে শুধুমাত্র মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এবং জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে তেহরান কোনো আপস করবে না।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, কাতার দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমান পরিস্থিতিতেও দোহার লক্ষ্য হলো উভয় পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের পথ খোলা রাখা এবং নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ঠেকানো।সরাসরি বৈঠক না হলেও এই পরোক্ষ আলাপ ভবিষ্যতে বৃহত্তর কোনো সমঝোতার ভিত্তি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

