বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রানীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিংয়ের (মিড-ডে মিল) জন্য বরাদ্দকৃত ডিম ও বনরুটি চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রেশমা আক্তারের বিরুদ্ধে অবশেষে বিভাগীয় মামলা রুজু করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।
সরকারি চাল-ডাল বা স্কুল ফিডিংয়ের মালামাল চুরির বিরুদ্ধে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের এই কঠোর পদক্ষেপে স্থানীয় অভিভাবকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ২৫ জুন ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) স্কুল ছুটি শেষে বিকেলে নিজ বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন রানীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার চলতি দায়িত্বে থাকা রেশমা আক্তার। এ সময় তাঁর বহন করা ভ্যানিটি ব্যাগ ও বাজারের ব্যাগের আকার দেখে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ জাগে। একপর্যায়ে স্থানীয় যুবকেরা রাস্তা আটকে তাঁর ব্যাগ তল্লাশি করলে সেখান থেকে শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের জন্য বরাদ্দকৃত ২৪টি মুরগির ডিম এবং ২২ প্যাকেট বনরুটি উদ্ধার করা হয়।
শিক্ষার্থীদের খাবার চুরির এই আপত্তিকর ঘটনার একটি ভিডিও ক্লিপ মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ব্যাপক ভাইরাল হয়। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ভিডিও ভাইরাল ও সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আমলে নিয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘটনার একটি দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্পন্ন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর, গত ২৮ জুন (রবিবার) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকা রেশমা আক্তারকে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্বশরীরে হাজির হয়ে কৈফিয়ত তলব (শোকজ) করার নির্দেশ দেয়।
আজ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, রেশমা আক্তার কৈফিয়ত তলবের শুনানিতে হাজির হয়ে কোনো সন্তোষজনক ও যুক্তিযুক্ত জবাব দিতে পারেননি।
ডিম-রুটি চুরির ঘটনার প্রত্যক্ষ প্রমাণ এবং প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩ (খ) এবং ৩ (ঘ) ধারা অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ ও ‘দুর্নীতি’র মতো শাস্তিযোগ্য অপরাধে তাকে চূড়ান্তভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই বিধিমালার অধীনেই তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো একটি পবিত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের পুষ্টির জন্য আসা খাবারে হাত দেওয়া চরম নৈতিক স্খলন। বিভাগীয় মামলার প্রক্রিয়া শেষে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতি বা বিধি মোতাবেক সর্বোচ্চ বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

