ভারতের অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় চীনা সেনাবাহিনীর অনুপ্রবেশ এবং বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগ তুলেছে স্থানীয় ‘নহ্’ উপজাতি সম্প্রদায়। তাদের দাবি, গত কয়েক বছরে সীমান্তসংলগ্ন চারণভূমি, শিকার এলাকা ও কৃষিজমির একটি বড় অংশে প্রবেশাধিকার হারিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি আপার সুবানসিরির ডেপুটি কমিশনারের কাছে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে এসব অভিযোগ তুলে ধরে ‘নহ্ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’। সংগঠনের সভাপতি কেরু চাদের দাবি, একসময় যেসব এলাকায় স্থানীয়রা অবাধে যাতায়াত, পশুচারণ ও বনজ সম্পদ সংগ্রহ করতেন, বর্তমানে সেসব স্থানে চীনা সেনাদের উপস্থিতি রয়েছে।
সংগঠনটির ভাষ্য, তাকসিং রাজস্ব সার্কেলের অন্তর্গত অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চীনের নিয়ন্ত্রণ বেড়েছে। তাদের অভিযোগ, গত এক দশকের বেশি সময় ধরে সীমান্ত এলাকায় চীনা তৎপরতা ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ২০২০ সালের পর পরিস্থিতি আরও বদলে গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, অনুপ্রবেশের অভিযোগ ওঠা এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ওইং, পানিয়ার, মারপান, পোত্রাং লেক এবং তিনদিংতাং। এসব স্থানের কয়েকটি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে।
স্মারকলিপিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে সড়ক নির্মাণ এবং স্থায়ী সামরিক স্থাপনা গড়ে তুলেছে চীনা বাহিনী।
তবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থা প্রকাশ করে সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, সীমান্ত রক্ষায় সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
এদিকে নাচো এলাকার বিধায়ক নাকাপ নালো অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় প্রশাসনের দ্রুত যাচাই-বাছাই করা উচিত।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত আপার সুবানসিরির জেলা প্রশাসন কিংবা অরুণাচল প্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।

