মুহাম্মদ মহসিন আলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দি ও ধরন্তী গ্রামের মধ্যে মাত্র এক লাখ টাকার পাওনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। টানা তিন দিনের সংঘর্ষে একজন নিহত এবং প্রায় দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটেরও অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধরন্তী গ্রামের খাদিম মিয়া, আলাল ও আশিকের কাছে পাটি কেনাবেচা সংক্রান্ত প্রায় এক লাখ টাকা পাওনা ছিল সূর্যকান্দি গ্রামের মোশারফ মিয়ার। এই পাওনা টাকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে গত ২৮ জুন দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
সংঘর্ষের প্রথম দিনে ধরন্তী গ্রামের শামসুল হকের ছেলে খাদিম মিয়া (৪৫) নিহত হন। এ সময় অন্তত ৫০ জন আহত হন। নিহতের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন ২৯ জুন খাদিম মিয়ার দাফন শেষে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুই পক্ষ পুনরায় দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দ্বিতীয় দিনের সংঘর্ষেও অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। সংঘর্ষের কারণে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) তৃতীয় দিনের মতো আবারও টেটা, বল্লম, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে কয়েক দফা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয় পক্ষ। এতে টেটাবিদ্ধসহ আরও অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। স্থানীয়দের দাবি, তিন দিনের সংঘর্ষে আহতের সংখ্যা প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জনে পৌঁছেছে।
সংঘর্ষের সুযোগে কয়েকটি দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের দোকানের মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে অনেকেই সর্বস্ব হারিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল কাদের ভূঁইয়া জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষের প্রথম দিন তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষ বন্ধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার উভয় পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই পুরোপুরি সংঘর্ষ থেকে সরে আসেনি। ফলে এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি।

