সৈয়দ আমিরুজ্জামান:
একজন শিক্ষক কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান বিতরণ করেন না; তিনি একটি সমাজ, একটি প্রজন্ম এবং একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণে নীরবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। একজন আদর্শ শিক্ষক তাঁর কর্ম, সততা, মানবিকতা ও মূল্যবোধের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জীবনে এমন প্রভাব রেখে যান, যা বহু বছর পরেও অম্লান থাকে।
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এমনই একজন নিবেদিতপ্রাণ সম্মানীয় শিক্ষক হলেন মো. জহির আলী, যিনি দীর্ঘ ৩২ বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষকতা পেশাকে ব্রত হিসেবে ধারণ করে অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবন আলোকিত করেছেন। ২০২৬ সালের ৩০ জুন তিনি সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করছেন। তাঁর এই অবসর কেবল একটি চাকরিজীবনের সমাপ্তি নয়; এটি এক বর্ণাঢ্য, সফল ও গৌরবময় শিক্ষা ও শিক্ষকতা জীবনের পূর্ণতা লাভের মুহূর্ত।
সম্মানীয় ও প্রাগ্রসর শিক্ষক মো. জহির আলীর জীবন ও কর্মের দিকে তাকালে উপলব্ধি করা যায়, শিক্ষা কেবল একটি পেশা নয়, বরং এটি একটি মহান দায়িত্ব, যা নিষ্ঠা, ধৈর্য ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে পালন করতে হয়। তিনি সেই দায়িত্ব সারা জীবন সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। একজন শিক্ষক, প্রশিক্ষক, সংগঠক এবং শিক্ষাপ্রশাসক হিসেবে তাঁর অবদান শিক্ষাঙ্গনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
শৈশব ও শিক্ষাজীবনের ভিত্তি
শিক্ষার অনন্য কারিগর মো. জহির আলী জন্মগ্রহণ করেন ১৯৬৭ সালের ১ জুলাই, মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের পাট্টাই গ্রামে। গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই মেধাবী শিক্ষার্থী অল্প বয়স থেকেই অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা ও জ্ঞানার্জনের প্রতি গভীর আগ্রহের পরিচয় দেন।
তাঁর প্রাথমিক শিক্ষার সূচনা কর্মধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ১৯৭৬ সালে তিনি বিদ্যালয়টি থেকে পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি ভর্তি হন ঐতিহ্যবাহী পৃথিমপাশা আলী আমজাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে ১৯৮২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হন।
মাধ্যমিকের পর তিনি সিলেটের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মুরারিচাঁদ (এমসি) ইন্টারমিডিয়েট কলেজে ভর্তি হন এবং ১৯৮৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হন।
উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যয়ন করেন। ১৯৮৪-৮৭ শিক্ষাবর্ষে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বিএসএস (সম্মান) সম্পন্ন করেন এবং ১৯৮৯ সালে সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
জ্ঞানার্জনের প্রতি তাঁর আগ্রহ কখনো থেমে থাকেনি। কর্মজীবনের মাঝেও তিনি উচ্চশিক্ষা অব্যাহত রাখেন। ২০১৩ সালে ঢাকার শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি থেকে ইংরেজি বিষয়ে দ্বিতীয়বার মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। একজন প্রতিষ্ঠিত শিক্ষক হয়েও নতুন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের এই আগ্রহ তাঁর শিক্ষানুরাগী মানসিকতার উজ্জ্বল উদাহরণ।
শিক্ষাবিজ্ঞানে নিজেকে আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে তিনি ১৯৯৮ সালে কুমিল্লা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে এমএড ডিগ্রি অর্জন করেন। ফলে বিষয়জ্ঞান, শিক্ষণ পদ্ধতি এবং শিক্ষাপ্রশাসনের ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হন।
শিক্ষকতা পেশায় পদার্পণ
জ্ঞান বিতরণ ও শিক্ষকতা পেশায় মো. জহির আলীর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৪ সালের ২৯ মার্চ, যখন তিনি শ্রীমঙ্গল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।
এটি ছিল তাঁর কর্মজীবনের সূচনা, কিন্তু খুব দ্রুতই তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও অভিভাবকদের কাছে একজন দায়িত্বশীল, দক্ষ ও জনপ্রিয় শিক্ষক হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তাঁর শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ছিল প্রাণবন্ত, সুসংগঠিত ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক। তিনি বিশ্বাস করতেন, একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত বিকাশ কেবল পরীক্ষার ফলাফলে নয়, বরং তার নৈতিকতা, মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের মধ্যেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত।
তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে শ্রীমঙ্গল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। এই বিদ্যালয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেবল কর্মস্থলের নয়; এটি ছিল তাঁর আবেগ, ভালোবাসা ও আত্মপরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বদলির মধ্যেও অবিচল দায়িত্ববোধ
সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে।
২০১০ সালের জুন মাসে তিনি হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার এল. আর. সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বদলি হয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। নতুন কর্মস্থলে গিয়েও তিনি শিক্ষার মানোন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
একই বছরের অক্টোবর মাসে তিনি মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বদলি হয়ে যোগ দেন। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
২০১৫ সালে তিনি পুনরায় শ্রীমঙ্গল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বদলি হয়ে আসেন। এই প্রত্যাবর্তন ছিল বিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব ও শিক্ষাদর্শন বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে নতুন গতি এনে দেয়।
নেতৃত্বের নতুন অধ্যায়
২০২৪ সালের জুন মাসে তিনি নবপ্রতিষ্ঠিত বর্মাছড়া টি গার্ডেন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একটি নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পরিচালনা করা, প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা এবং শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং কাজ। তিনি দক্ষতার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর তিনি সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং আবারও শ্রীমঙ্গল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। মাত্র কয়েকদিন পর, ১৪ ডিসেম্বর থেকে তিনি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান, শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে নতুন প্রাণসঞ্চার করেন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি ২০২৫ ও ২০২৬ সালে পরপর দুইবার উপজেলার শ্রেষ্ঠ উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করে। এটি নিঃসন্দেহে তাঁর নেতৃত্ব, পরিকল্পনা ও কর্মনিষ্ঠার একটি বড় স্বীকৃতি।
একজন আদর্শ শিক্ষকের মানবিক রূপ
আমার মেয়ে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মুরারিচাঁদ কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান সম্মান প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সৈয়দ হাজেরা সুলতানা শানজিদারও অত্যন্ত প্রিয় শিক্ষক মো. জহির আলীর সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি একজন মানবিক শিক্ষক। তিনি কখনো শিক্ষার্থীদের কেবল পরীক্ষার্থী হিসেবে দেখেননি; বরং তাদের একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত সমস্যা, পারিবারিক সংকট কিংবা মানসিক চ্যালেঞ্জের সময় তিনি পাশে দাঁড়িয়েছেন। অনেক শিক্ষার্থী আজ বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত। তারা যখন তাদের জীবনের সফলতার পেছনে যাঁদের অবদানের কথা স্মরণ করেন, তখন জহির আলীর নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারণ করেন।
তাঁর আচরণে ছিল সৌজন্য, কথাবার্তায় ছিল আন্তরিকতা এবং সিদ্ধান্তে ছিল ন্যায়পরায়ণতা। ফলে সহকর্মীদের কাছেও তিনি ছিলেন একজন সম্মানিত ব্যক্তি। বিদ্যালয়ের অভিভাবকরাও তাঁর প্রতি গভীর আস্থা ও শ্রদ্ধা পোষণ করতেন।
প্রশিক্ষক ও শিক্ষাবিদ হিসেবে অবদান
শিক্ষকতা জীবনে মো. জহির আলী বহু প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, একজন শিক্ষককে সবসময় শিখতে হবে। শিক্ষা একটি পরিবর্তনশীল ক্ষেত্র; তাই নতুন জ্ঞান, নতুন প্রযুক্তি ও নতুন শিক্ষণ-পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হওয়া জরুরি।
তিনি কেবল প্রশিক্ষণ গ্রহণই করেননি; বিভিন্ন সময়ে প্রশিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অন্য শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁর এই অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
সততা, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধের প্রতীক
বর্তমান সময়ে যখন শিক্ষা ক্ষেত্রে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান, তখন মো. জহির আলীর মতো শিক্ষকরা আশার আলো দেখান। তিনি কর্মজীবনে সততা, স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার সঙ্গে কখনো আপস করেননি।
তাঁর নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ছিল নিয়মতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেবল পাঠদান কেন্দ্র নয়; এটি মূল্যবোধ চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।
শিক্ষার্থীদের তিনি সবসময় সত্যবাদিতা, দেশপ্রেম, মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর নিজের জীবনও ছিল সেই মূল্যবোধের বাস্তব প্রতিফলন।
শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী স্থান
একজন শিক্ষকের প্রকৃত সাফল্য তাঁর শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় নিহিত থাকে। মো. জহির আলীর ক্ষেত্রেও সেটিই সত্য।
তাঁর অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ দেশে-বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশায় কর্মরত। তারা যখন নিজেদের জীবনের অর্জনের কথা বলেন, তখন তাঁদের স্মৃতিতে ভেসে ওঠে সেই শিক্ষক, যিনি একদিন তাদের উৎসাহ দিয়েছেন, পথ দেখিয়েছেন এবং স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল পিতৃতুল্য। কঠোরতার সঙ্গে মমত্ববোধের যে সুন্দর সমন্বয় একজন আদর্শ শিক্ষকের মধ্যে থাকা প্রয়োজন, তা তাঁর ব্যক্তিত্বে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
অবসর: সমাপ্তি নয়, নতুন সূচনা
২০২৬ সালের ৩০ জুন মো. জহির আলী আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর গ্রহণ করছেন। তবে একজন প্রকৃত শিক্ষকের অবসর কখনো সম্পূর্ণ অবসর নয়। চাকরির দায়িত্ব শেষ হতে পারে, কিন্তু শিক্ষা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব কখনো শেষ হয় না।
দীর্ঘ কর্মজীবনে অর্জিত অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও নেতৃত্ব আগামী দিনেও সমাজকে সমৃদ্ধ করবে। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা সবার।
তাঁর অবসর উপলক্ষে শিক্ষার্থী, সহকর্মী, অভিভাবক এবং শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে এক ধরনের আবেগ কাজ করছে। কারণ তিনি কেবল একজন প্রধান শিক্ষক নন; তিনি ছিলেন একজন অভিভাবক, একজন পরামর্শদাতা এবং একজন অনুপ্রেরণার উৎস।
কৃতজ্ঞতার নিবেদন
আজ যখন মো. জহির আলী তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের সফল সমাপ্তির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে, তখন তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান, শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা, সহকর্মীদের প্রতি তাঁর সহযোগিতামূলক মনোভাব এবং সমাজের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা তাঁকে একজন অনুকরণীয় শিক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
একটি জাতির উন্নয়নের মূল ভিত্তি শিক্ষা, আর শিক্ষার ভিত্তি নির্মাণ করেন শিক্ষকরা। মো. জহির আলী সেইসব শিক্ষকদের একজন, যাঁদের নিরলস শ্রম ও আত্মত্যাগের কারণে সমাজ আলোকিত হয়েছে, অসংখ্য শিক্ষার্থী জীবনের পথে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি পেয়েছে।
তাঁর অবসর জীবনের জন্য রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা। মহান আল্লাহ তাঁকে সুস্থতা, দীর্ঘায়ু এবং পারিবারিক সুখ-শান্তিতে ভরপুর জীবন দান করুন। তিনি যেন তাঁর প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা ও মানবিক মূল্যবোধ দিয়ে আগামী প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করতে পারেন—এই প্রত্যাশাই সবার।
মো. জহির আলীর কর্মময় জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—একজন আদর্শ শিক্ষক কখনো অবসর নেন না; তিনি তাঁর কর্ম, আদর্শ এবং শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকেন।
সৈয়দ আমিরুজ্জামান
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট;
বিশেষ প্রতিনিধি, দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট (ইংরেজি দৈনিক) ও সাপ্তাহিক নতুনকথা;
সম্পাদক, আরপি নিউজ;
কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, জাতীয় কৃষক সমিতি;
‘৯০-এর মহান গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক ও সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী।
সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়ন।
সাধারণ সম্পাদক, মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায় জাতীয় কমিটি।
প্রাক্তন সভাপতি, বাংলাদেশ আইন ছাত্র ফেডারেশন।

