২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে একদিনে দেখা মিলেছে তিন ভিন্ন আবহের। একদিকে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে নকআউটে জায়গা নিশ্চিত করেছে কানাডা। অন্যদিকে নিউইয়র্কে নিজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার এরলিং হালান্ড। আর গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ায় হতাশার মধ্যেই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। এসব ঘটনাই বিশ্বকাপের সর্বশেষ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
নকআউটে ওঠার লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেছে কানাডা। ম্যাচজুড়ে বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নেয় উত্তর আমেরিকার দলটি। এই জয়ে শেষ ৩২-এ নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করে কানাডা। দলের কোচ বলেন, খেলোয়াড়রা পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছে এবং কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে পেরেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কানাডার ফুটবলে যে উন্নতি হয়েছে, এই জয় তারই প্রতিফলন। তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে দলটি এবারের বিশ্বকাপে চমক দেখাতে পারে।
এদিকে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আবারও নিজের গোল করার দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন নরওয়ের গোলমেশিন এরলিং হালান্ড। তাঁর গতি, শক্তি ও নিখুঁত ফিনিশিং প্রতিপক্ষকে বারবার বিপদে ফেলেছে। ম্যাচ শেষে দর্শকদের প্রশংসায় ভাসেন তিনি।
হালান্ড বলেন, বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচই আলাদা চ্যালেঞ্জ এবং দলকে আরও অনেক দূর নিয়ে যেতে চান তিনি। তাঁর দুর্দান্ত ফর্মে নরওয়েকেও সম্ভাব্য শিরোপাপ্রত্যাশীদের তালিকায় রাখা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইরানের জন্য এবারের বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে হতাশার মধ্য দিয়ে। তিন ম্যাচে অপরাজিত থাকলেও গোল ব্যবধানের কারণে নকআউটে উঠতে পারেনি দলটি। শেষ ম্যাচে জয়ের খুব কাছে গিয়েও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সিদ্ধান্তে গোল বাতিল হওয়ায় ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়।
ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মেহদি তারেমি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, দলটি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, কিন্তু ভাগ্য তাদের পক্ষে ছিল না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ভ্রমণ ও প্রশাসনিক নানা জটিলতা দলের প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নকআউট পর্বের উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। কানাডা আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে, হালান্ডের নরওয়ে শিরোপার স্বপ্ন দেখছে, আর ইরান ভবিষ্যতের লক্ষ্য সামনে রেখে দেশে ফিরছে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বিশ্বকাপে প্রতিষ্ঠিত শক্তিগুলোর পাশাপাশি উদীয়মান দলগুলোর পারফরম্যান্সও টুর্নামেন্টকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে। ফলে প্রতিটি নকআউট ম্যাচেই নতুন চমক দেখার সম্ভাবনা রয়েছে।

