বয়স বাড়লেই একজন নারীকে ‘বুড়ি’ বা বাতিলের খাতায় ফেলে দেওয়ার সামাজিক মানসিকতার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও সমালোচনা করেছেন টালিউডের অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং প্রতিভাবান অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক সাহসী ও অনুপ্রেরণামূলক পোস্টে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন—বয়স কোনো নারীর সম্ভাবনা, প্রাণশক্তি কিংবা সৌন্দর্যের শেষ নয়; বরং এটি পরিণত হওয়ার এবং নিজেকে আরও গভীরভাবে ভালোবাসার এক পরম সুন্দর সময়।
পর্দায় প্রাণবন্ত অভিনয়, মায়াবী রূপ আর হাস্যোজ্জ্বল উপস্থিতির জন্য দর্শকপ্রিয় অপরাজিতা আঢ্য বাস্তব জীবনেও নিজের স্পষ্ট ও ধারালো মতামতের জন্য সমান পরিচিত। সম্প্রতি চল্লিশোর্ধ্ব নারীদের জীবনধারা, পোশাক এবং বয়স নিয়ে সমাজের তৈরি করা ছকবাঁধা ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করে তিনি ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট শেয়ার করেন, যা মুহূর্তেই নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।

পোস্টে বয়সকে কেবল একটি সাধারণ সংখ্যা (Number) হিসেবে উল্লেখ করে অভিনেত্রী লেখেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একজন নারী ভেতরে-বাইরে আরও পরিণত ও গভীর হয়ে ওঠেন। একই সঙ্গে নিজের প্রতি তাঁর আত্মবিশ্বাস ও ভালোবাসাও বহুগুণ বেড়ে যায়। নিজের জীবনের রূপান্তর ও বিবর্তনের কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন:
“আমি তো সেই মানুষ, শুধু অভিজ্ঞতা একটু বেশি, হাসিটা একটু গভীর, কান্নাটা একটু চুপচাপ, আর নিজেকে ভালোবাসাটা আগের চেয়ে অনেক বেশি।”
জীবনের বিভিন্ন বয়স ও মনস্তাত্ত্বিক পর্যায়কে দারুণ কিছু রূপকের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করে অপরাজিতা আরও লেখেন:
“কুড়িতে ছিলাম কুঁড়ি, ত্রিশে হয়েছি নদী, আর চল্লিশে এসে বুঝেছি— আমি আসলে সমুদ্র! আমার ঢেউ আছে, আমার গভীরতা আছে, আমার ঝড় আছে, আর আছে নিজের মতো বাঁচার সাহস।”
নারীদের বয়স নিয়ে সমাজে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণার সমালোচনা করে এই ওপার বাংলার অভিনেত্রী বলেন, বয়স বাড়া কোনো অপরাধ বা লজ্জার বিষয় নয়। প্রকৃত সমস্যা হলো—একজন নারীর বয়স দেখে সমাজ যেভাবে তাঁর প্রাণশক্তি, নতুন স্বপ্ন দেখা, সাজগোজ করা এবং জীবন উপভোগের অধিকারকে সীমাবদ্ধ বা সংকুচিত করে দিতে চায়, সেই প্রবণতা। কোনো নারী মাঝবয়সে নিজের মতো করে বাঁচতে চাইলে সমাজ যেভাবে তাকে বাঁকা চোখে দেখে, তার তীব্র বিরোধিতা করেন তিনি।
অপরাজিতা আঢ্যর এই পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখো নারীর মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বহু সাধারণ নারী থেকে শুরু করে বিনোদন জগতের তারকারাও এই পোস্টটির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে—বয়স নয়, বরং একজন মানুষের আত্মবিশ্বাস ও জীবনবোধই তাকে সংজ্ঞায়িত করে।

পোস্টের শেষাংশে এসে সমাজের তথাকথিত সমালোচকদের উদ্দেশ্যে এক তুমুল চপেটাঘাত ও আত্মবিশ্বাসের বার্তা দেন অপরাজিতা। তিনি লেখেন:
“আমি বুড়ি নই, আমি পরিণত। আমি শেষ নই, আমি পূর্ণ। আর যদি লাল শাড়ি পরে, ঠোঁটে লিপস্টিক দিয়ে, হেসে একটা ছবি তুলি, তাহলে জেনে রেখো— আমি বুড়ি হইনি, আমি জীবনটাকে উদযাপন করছি। কারণ নারী বুড়ি হয় না, নারী শুধু প্রতি বছর আরও একটু গল্প হয়ে ওঠে।”
জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীর এমন জীবনমুখী ও ইতিবাচক বার্তা সমাজের বহু নারীকে নতুন করে নিজেদের ভালোবাসতে এবং বয়সকে জয় করে মাথা উঁচু করে বাঁচতে শক্তি জোগাবে বলে মনে করছেন অনুরাগীরা।

