ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ৩২-এ পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হচ্ছে জাপান। শক্তির বিচারে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও ম্যাচের আগে মোটেও পিছিয়ে নেই জাপানের আত্মবিশ্বাস। বরং দলটির প্রধান কোচ হাজিমে মোরিয়াসু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমাদেরও জেতার সুযোগ থাকবে।’
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সুইডেনের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে ‘এফ’ গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে নকআউটে জায়গা করে জাপান। এরপরই নিশ্চিত হয় যে শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ হবে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষ দল ব্রাজিল।
ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মোরিয়াসু বলেন, ব্রাজিল নিঃসন্দেহে বিশ্বের অন্যতম সেরা দল এবং তাদের ইতিহাসও সমৃদ্ধ। তবে শুধু নাম দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
জাপান কোচের ভাষায়, “ব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। কিন্তু আমাদেরও জয়ের সুযোগ থাকবে। নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা মাঠে তুলে ধরতে পারলে আমরা তাদের হারাতে পারি।”
জাপানের আত্মবিশ্বাসের আরেকটি কারণ গত বছরের একটি প্রীতি ম্যাচ। সেই ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে ব্রাজিলকে হারিয়েছিল জাপান। যদিও বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচের চাপ ও বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন, তবুও সেই জয় খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে বাড়তি শক্তি দিচ্ছে।
অন্যদিকে গ্রুপ পর্বে দারুণ ছন্দে ছিল ব্রাজিল। মরক্কোর সঙ্গে ড্র করলেও হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সেলেসাওরা। ফলে নকআউটে তারাই থাকবে ফেবারিটের কাতারে।
তবে মোরিয়াসু মনে করেন, বিশ্বকাপের নকআউটে অতীতের পরিসংখ্যান খুব বেশি গুরুত্ব বহন করে না। একটি ভালো দিন, সঠিক পরিকল্পনা এবং সর্বোচ্চ লড়াইয়ের মানসিকতাই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে। তিনি বলেন, জাপানের নকআউটে ওঠা শুধু দলের নয়, পুরো এশিয়ার ফুটবলের অগ্রগতিরও প্রতীক।
আগামী ২৯ জুন হিউস্টনে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত ব্রাজিল-জাপান লড়াই। ম্যাচটি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে, কারণ আত্মবিশ্বাসে ভরপুর জাপান এবার পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে প্রস্তুত।

