লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ জন নিহত এবং প্রায় ৭০০ জন আহত হয়েছেন। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (স্থানীয় সময়) সন্ধ্যা ৬টার কিছু পর উত্তর ভেনিজুয়েলায় প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর এক মিনিটেরও কম সময় পরে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও শক্তিশালী দ্বিতীয় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। জোড়া এই ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন শহরের বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়েছে।
উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে মৃত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) সতর্ক করে জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা বিবেচনায় প্রাণহানির সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছানোর ঝুঁকি রয়েছে। সংস্থাটির বিশ্লেষণে ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিমানবন্দরের ভেতর আতঙ্কিত যাত্রীদের ছুটোছুটি করতে দেখা গেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলাকে চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভূমিকম্পকে “বিশাল মাত্রার বিপর্যয়” হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ভূমিকম্পের দিন ভেনিজুয়েলায় একটি জাতীয় ছুটি চলছিল। ফলে অনেক মানুষ নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করছিলেন, যা হতাহতের সংখ্যা বাড়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলেও দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি অবস্থা জারি করে কাজ করছে সরকার।
সূত্র:বিবিসি

