ডিজিটাল ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের জুয়া, বেটিং এবং ম্যাচ ফিক্সিংয়ের মতো অপরাধ কঠোরভাবে দমনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে একটি অত্যন্ত যুগোপযোগী ও শক্তিশালী বিল উত্থাপন করা হয়েছে। এই প্রস্তাবিত আইনে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন ২০২৬) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ’ নামের এই গুরুত্বপূর্ণ বিলটি উত্থাপন করেন। মূলত ১৫৭ বছরের পুরোনো ব্রিটিশ আমলের ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ বাতিল করে সম্পূর্ণ আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর আইন প্রণয়নের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিলটি অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে এবং আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত নতুন আইনে অনলাইন জুয়া, স্পট ফিক্সিং, বাজি বা পণ ধরাসহ মোট ২৪টি বিষয়কে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং অপরাধের ধরন অনুযায়ী ১৪টি ভিন্ন মাত্রার শাস্তির কথা বলা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য শাস্তির বিধানগুলো হলো:
সাধারণ জুয়া: কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাধারণ জুয়ায় জড়ালে তাকে ২ বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড ভোগ করতে হবে।
অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়া: দূরবর্তী বা অনলাইন জুয়ার ক্ষেত্রে সাজা বাড়িয়ে ৫ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে।
অনলাইন বেটিং (বাজি): অপরাধের মাত্রায় সবচেয়ে কঠোর সাজা রাখা হয়েছে অনলাইন বেটিংয়ের ক্ষেত্রে। কেউ এতে সম্পৃক্ত হলে তাকে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড বা ৫ কোটি টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিং: খেলাধুলায় ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিংয়ের সাথে জড়িতদের জন্য অনূর্ধ্ব ৭ বছরের জেল বা সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে বিলে।
বিলটি উত্থাপনের যৌক্তিকতা ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ সংসদে জানান, দেড় শতাব্দী পুরোনো সনাতন আইনটি দিয়ে বর্তমান সময়ের ভার্চ্যুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া, স্পোর্টস বেটিং ও ডিজিটাল আর্থিক জালিয়াতি মোকাবিলা করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছিল না। এছাড়া দেশের সংবিধানেও জুয়া নিরোধে রাষ্ট্রের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন: “বর্তমানে ভিপিএন (VPN), ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট (MFS) ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে জুয়া খেলার পাশাপাশি দেশ থেকে কোটি কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে দেশের অর্থনীতি, জনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও তরুণ সমাজ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। তাই প্রযুক্তিনির্ভর এসব অপরাধ ঠেকাতে এবং রাষ্ট্রের সার্বিক অর্থনৈতিক ও নৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় এই নতুন আইন প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।”

