জয়পুরহাট প্রতিনিধি:
জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভার কাথাইল হিন্দুপাড়া গ্রামে পাঁচটি পরিবারের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা টিন ও বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে ।এতে প্রায় ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত রাস্তাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারগুলো কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কাথাইল হিন্দুপাড়া গ্রামের পাঁচটি পরিবার প্রায় ৩০ বছর ধরে সামনের রেকর্ডভুক্ত রাস্তা ব্যবহার করে আসছেন। সম্প্রতি প্রতিবেশী পক্ষ হঠাৎ করে রাস্তার দুই পাশে টিন ও বাঁশের বেড়া স্থাপন করে চলাচল বন্ধ করে দেয়।
ঘটনার পর সেই সময় ওই গ্রামের ওয়ার্ড কমিশনার,কালাই থানা পুলিশ ও তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রাস্তার প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করে দিলেও অভিযুক্তরা আবার রাস্তা ও পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তায় টিন ও বাঁশের বেড়া এবং পানি জমে থাকায় সাধারণভাবে চলাচল করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে নারী, শিশু ও বয়স্কদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
প্রতিবেশি পরিবানু বলেন, তাদের বাড়িতে পানি এলে বাড়িত থেকে বের হতে পারেনা, ছলেরা পড়াশুনা করতে পারেনা। ভাত রান্না করতে পারেনা বলে খেতে পারেনা।আমার বাড়িতে গিয়ে রান্না করে খায়।তারা খুব কস্টের মধ্যে আছে। দেশে কি আইন কানুন নাই।এই পানি যাওয়ার সমস্যার সমাধান কি করতে পারবেনা সরকার?
আরেক প্রতিবেশী বলেন, পৌরসভার লোকজন ও আগের ইউএনও এসে খুলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল এবং খুলেও দিয়েছিল কিন্তু আবার তারা বন্ধ করে দেয়।
ভোগান্তিতে পড়া কাথাইল হিন্দু পাড়া গ্রামের ২য় শ্রেনীতে পড়া ছোট্ট এক শিক্ষার্থী বলেন, সামান্য পানি হলে আমি পড়তে পারিনা, স্কুলে যেতে পারিনা। ওইদিকে পুকুরের পার দিয়ে যেতে যেতে পুকুরে পড়ে গেছিলাম।প্রশাসনের কাছে আমি চাই আমাদের এই রাস্তা যেন খুলে দেয়।
ভুক্তভোগী জাহানারা বেগম জানান, একমাত্র চলাচলের রাস্তা ও পানি যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা চরম দুর্ভোগে পড়েছি। একটু বৃষ্টি হলেই বাড়ির আঙিনা, ঘরের মধ্যে পানি ঢুকে পড়ে, রান্না বান্না করা যায়না, ঘরের মধ্যে থাকতে খুব কস্ট হয়। এই রাস্তার বিষয়টি নিয়ে আগের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একটা সমাধান করে দিলে ও তারা পুনরায় আবার সেটা বন্ধ করে দেয়।
অভিযুক্ত ফজলুর রহমান তার ছেলে শামীম বলেন, পশ্চিম পাশে আলম ও বাশিরের জমি ফাকা থাকায় তারা অই জমির আইল দিয়ে চলাচল করতো। মূলত তারা যখন জমি পড়ে ছিল তখন ওই দিকে চলাচল করতো। এটা কোন রাস্তা ছিলনা। আমরা আমাদের জায়গা ঘিরে নিয়েছি।সেটা কখনোই রাস্তা ছিলনা।তারা ইচ্ছা করে ঝামেলা করছে।
আরেক অভিযুক্ত তাইফুল ইসলাম ফিতা বলেন, ওটা রাস্তা ছিলনা তবে চলাচল করত ও পানি যেত।আমার ভাই ফজলুরের সাথে ঝগড়া বিবাদ হয়ে সেটা বন্ধ হয়েছে। এতে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। বরং আমি আরো চেষ্টা করেছি সেটি খুলে দেওয়ার জন্য কিন্তু তারা আমার কথা শোনেনি।
এ বিষয়ে কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “আমি বিষয়টি জানিনা,আপনার কাছ থেকেই শুনলাম। আমি দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে তাদের দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

