মালয়েশিয়ায় প্রায় ১৮ ঘণ্টার সফর শেষে চীনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর মালয়েশিয়া সরকার ও সে দেশের জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন ২০২৬) প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা বার্তাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বার্তায় প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করার পাশাপাশি মালয়েশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের উষ্ণ আতিথেয়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও রাজাকে ধন্যবাদ:
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং দেশটির রাজার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন:
“আমার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং আমি, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং তাঁর স্ত্রী ড. ওয়ান আজিজা বিনতি ওয়ান ইসমাইলকে তাঁদের অবিশ্বাস্য উষ্ণ অভ্যর্থনা ও চমৎকার আতিথেয়তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। মালয়েশিয়া সরকার এবং সে দেশের বন্ধুভাবাপন্ন সাধারণ মানুষের যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ মনোভাব আমরা দেখেছি, তাতে আমরা গভীরভাবে অভিভূত। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে আমার আলোচনা বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে।”
প্রধানমন্ত্রী আরও যোগ করেন, “মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইবনি সুলতান ইস্কান্দারকে তাঁর মূল্যবান ব্যস্ততার মাঝেও আমাদের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জন্য সময় দেওয়ায় আমি তাঁর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।”
বহু দশকের পুরোনো পারিবারিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক:
বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক পটভূমি টেনে এক আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, এই সম্পর্ক আজকের নতুন নয়; বরং তাঁর বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, সেই বহু দশক পুরোনো সময় থেকেই মালয়েশিয়ার সঙ্গে এই হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রয়েছে।
বহুমাত্রিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার:
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার এই সম্পর্ককে ঢাকা অত্যন্ত মূল্য দেয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মানুষের সঙ্গে মানুষের (People to People) যে শক্তিশালী যোগাযোগ, তা সমাজ ও সংস্কৃতির সর্বস্তরের মানুষকে একসূত্রে আবদ্ধ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর। আর এই সফল সফরের পর আগামী দিনগুলোতে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য, শ্রমবাজার এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বহুমুখী অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করতে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ব্যাপারে তিনি উন্মুখ হয়ে আছেন বলে বার্তায় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

