পৃথিবীতে অন্যতম জনপ্রিয় একটি ফল হলো আম। এর অনন্য স্বাদ, সুবাস আর পুষ্টিগুণের কারণে একে বলা হয় ‘ফলের রাজা’। আমে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, ফোলেট, ফাইবার ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো শরীরের জন্য অপরিহার্য নানা পুষ্টি উপাদান। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে আম খেলে তা শরীরের হজমশক্তি বাড়াতেও দারুণ সাহায্য করে।
তবে বর্তমানে বাজার থেকে আম কিনতে গিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হলো ‘রাসায়নিক’ বা ফরমালিন-কার্বাইড। কৃত্রিমভাবে পাকানো এসব আম খেলে শরীরের উপকারের চেয়ে ক্ষতিই হয় বেশি। তাই সুস্থ থাকতে বাজার থেকে ভালো ও প্রাকৃতিকভাবে পাকা আম চেনার উপায়গুলো জেনে নেওয়া জরুরি।
নিচে গাছপাকা ও খাঁটি আম চেনার ৫টি সহজ উপায় দেওয়া হলো:
১. ত্বকের অবয়ব ও স্পর্শ
পাকা ও মিষ্টি আম স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য কাঁচা বা আধা-পাকা আমের তুলনায় কিছুটা নরম হয়। বাজার থেকে আম কেনার সময় হালকা হাতে ছুঁয়ে বা একটু চাপ দিয়ে দেখে নিন। আমটি যদি মৃদু নরম লাগে, তবে বুঝবেন এটি পেকেছে। তবে খেয়াল রাখবেন, আমটি যেন অতিরিক্ত নরম বা পচাটে না হয়। রাসায়নিকে পাকানো আম অনেক সময় ওপর থেকে শক্ত দেখায় কিন্তু ভেতরে পেকে যায়।

২. আমের বোঁটার তীব্র সুগন্ধ
আম মিষ্টি ও প্রাকৃতিকভাবে পাকা কিনা, তা বোঝার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি হলো এর সুগন্ধ। আমের বোঁটার (গোঁড়ার) কাছ থেকে যদি তীব্র ও মিষ্টি সুবাস আসে, তবে নিশ্চিত হতে পারেন যে আমটি ভেতর থেকে মিষ্টি হবে। যদি আমে কোনো সুঘ্রাণ না পান, তবে সেটি কেনা থেকে বিরত থাকাই ভালো।
৩. রাসায়নিকের ঝাঁজালো গন্ধ পরীক্ষা
গাছপাকা আমের বোঁটার কাছে নাক নিয়ে ঘ্রাণ নিলে আমের চেনা ও পরিচিত মিষ্টি গন্ধ পাওয়া যায়। কিন্তু রাসায়নিক বা কার্বাইড দিয়ে পাকানো আমে কোনো স্বাভাবিক সুগন্ধ থাকেই না; বরং অনেক সময় ওষুধ বা কেমিক্যালের তীব্র ঝাঁজালো কিংবা কৃত্রিম একটি গন্ধ পাওয়া যায়।
৪. গোঁড়ার দিকে গাঢ় রং
প্রাকৃতিকভাবে যেসব আম গাছে পাকে, সেগুলোর রঙে একটা অসমতা থাকে। সাধারণত প্রাকৃতিক আমের গোঁড়ার দিকের অংশে কিছুটা গাঢ় বা লালচে-হলুদ রং দেখা যায়। অন্যদিকে, রাসায়নিক দিয়ে কৃত্রিমভাবে পাকানো আমের পুরো শরীরজুড়ে সমান ও নিখুঁত হলদে রং থাকে, যা দেখতে কৃত্রিম মনে হয়।

৫. স্বাদে টক-মিষ্টির প্রকৃত ভাব
গাছপাকা আমের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এর ভেতরের প্রকৃত স্বাদ। এটি মুখে দিলে মিষ্টি স্বাদের পাশাপাশি হালকা একটু প্রাকৃতিক টক-মিষ্টি ভাব এবং মুখে একটা সুন্দর ঘ্রাণ লেগে থাকে। কিন্তু কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো আম মুখে দিলে কোনো চেনা স্বাদ পাওয়া যায় না, কোনো সুবাস থাকে না এবং ভেতরে পানসে বা স্বাদহীন মনে হয়।
আম বাজার থেকে কেনার পর খাওয়ার আগে অন্তত আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এতে আমের গায়ে লেগে থাকা যেকোনো রাসায়নিকের তীব্রতা অনেকটাই কমে যায়।

