ইবি প্রতিনিধি:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শ কর্তৃক শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো.সজীব হাসানকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় প্রক্টর বরাবর নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা চেয়ে আবেদনপত্র জমা দিয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) দুপর আড়াই টায় আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইবির প্রক্টর অধ্যাপক ড মো. শাহীনুজ্জামান।
জানা গেছে, সম্প্রতি ইবিতে আর্জেন্টিনা ফ্যানস ইউনিটির নতুন কমিটি প্রকাশিত হয় যেখানে আসিফ হাসান লিখনকে সভাপতি এবং মনিরুজ্জামান মিমকে সম্পাদক করা হয়। এই কমিটিকে কেন্দ্র করে বৈছাআ নেতা বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শ তাঁর ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। পোস্টে তিনি নবগঠিত কমিটিকে ‘ছাত্রলীগের পুনর্বাসনকৃত আর্জেন্টিনা কমিটি’ বলে আখ্যায়িত করেন এবং সভাপতি আসিফ হাসান লিখনের বিরুদ্ধে জুলাই বিপ্লবের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন। উক্ত পোস্টের নিচে ‘Sajib Hasan’ (সজীব হাসান) নামের এক শিক্ষার্থী মন্তব্য করে লিখেন, “বান্ধবীর টাকা মেরে, ডেকোরেশনের চেয়ার খেয়ে মনে হয় বাঁধন ভুলে গেছে নিজেও ছাত্রলীগ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল”। এই কমেন্টকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ছাত্রনেতা বাঁধন।
ভুক্তভুগী আবেদনটিতে উল্লেখ করেন, সে সাদ্দাম হোসেন হলের ২২৭ নং কক্ষের আবাসিক ছাত্র। তাকে গত ১৯ জুন ২০২৬ শুক্রবার দুপুর আড়াই টায় একই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ইবি শাখার বৈছাআ’র যুগ্ম সদস্য সচিব বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শ আমাকে অশালীন ও আপত্তিকর ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন। বাঁধন ফোনালাপে সজীবকে হুমকি দিয়ে আরো বলেছিল, ‘ক্যাম্পাসের কোনো স্যার কিংবা চেয়ারম্যান তোমাকে বাঁচাতে পারবে না’ এবং তোমাকে হল থেকে বের করে দেওয়া হবে।
আরো উল্লেখ করা ছিল, আমি চাই না আরেক সাজিদ আব্দুল্লার মতো লাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে। উক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমি হলে ও ক্যাম্পাসে আমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও আশঙ্কার মধ্যে রয়েছি। ফলে স্বাভাবিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম ও আবাসিক জীবন পরিচালনা করা আমার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিনীত নিবেদন করে প্রক্টর বরাবর উল্লেখ করেন , আমার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্তপূর্বক আমার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে বাধিত করবেন।
এ ব্যাপারে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো.শাহিনুজ্জামান বলেন, সজীবের অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তদন্ত কমিটি গঠন করে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

