রাজধানীর রামপুরায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার এক সপ্তাহ পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে ‘কাইল্লা’ পলাশ।
শুক্রবার (১৯ জুন) রাত ১টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, মরদেহের ময়নাতদন্তসহ আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুন দুপুরে রামপুরার বিটিভি ভবনের বিপরীতে নিজ বাসার কাছে একদল দুর্বৃত্ত পলাশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ঘটনার পর পলাশের স্ত্রী মাহমুদা খানম হাতিরঝিল থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। তার মৃত্যুর পর মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এজাহারে জিসান আহমেদ মন্টিকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি বাদশা ওরফে গুজা বাদশা, গলদা বাদশা, শান্ত ওরফে পিচ্চি শান্ত, সোলাইমান খন্দকার, ফারুক ওরফে চাচা ফারুক, হেবেল, মোল্লা জনি, ফিরোজ মোহাম্মদ মোল্লা, পিচ্চি আলামিন ওরফে তোতলা আলামিন এবং সজীবসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও ৭–৮ জনকেও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, পূর্বপরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের একজন ইমাম হোসেন, যিনি হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে। পরে র্যাব ফেরদৌস নামের আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে।
হাতিরঝিল থানা-পুলিশ জানায়, ইয়াসিন খান পলাশ রাজধানীর একজন তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। হামলার পেছনে আন্ডারওয়ার্ল্ডের আধিপত্য বিস্তার নাকি ব্যক্তিগত শত্রুতা—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

