নওগাঁ জেলা জজ আদালতের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতের সেরেস্তাদার মোঃ মামুনুর রশিদ বাঁধনের বিরুদ্ধে একের পর এক বেনামি অভিযোগ জমা পড়াকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে অভিযোগগুলোর উৎস ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে।
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিভিন্ন নামে দাখিল করা এসব অভিযোগের পেছনে পরিকল্পিতভাবে একজন সরকারি কর্মচারীকে হয়রানি করার উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
সম্প্রতি ‘রবিউল ইসলাম’ নামে একটি পরিচয় ব্যবহার করে নিয়োগ বাণিজ্য, তদবির ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়। তবে অভিযোগপত্রে উল্লেখিত তথ্য ও ঘটনাগুলোর সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ বা উৎস উল্লেখ নেই বলে জানা গেছে।
এর আগে একই ধরনের আরও দুটি অভিযোগ জমা পড়েছিল, যেখানে ভিন্ন ভিন্ন নাম ব্যবহার করা হয়। অভিযোগগুলোর ভাষা ও কাঠামো প্রায় একই ধরনের হওয়ায় এগুলো একই উৎস থেকে পাঠানো হতে পারে—এমন সন্দেহও দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযোগে ব্যবহৃত কিছু নাম ও পরিচয়ের বাস্তব অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। একাধিক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দা দাবি করেছেন, উল্লেখিত ব্যক্তিদের কেউ কেউ এলাকায় পরিচিত নন বা তাদের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে অভিযোগের ধারাবাহিকতা ও মিল দেখে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন, এগুলো কি সত্যিকারের একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, নাকি একই চক্র ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ দাখিল করছে?
আদালত সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সেরেস্তাদার বা পেশকারের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকে না। ফলে অভিযোগে উল্লেখিত নিয়োগ বাণিজ্যের দাবির সঙ্গে বাস্তব প্রশাসনিক কাঠামোর অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে তারা মনে করেন।
অন্যদিকে, অভিযোগকারীর পরিচয়, তথ্যের উৎস এবং অভিযোগের সময়কাল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, দীর্ঘ সময় পর হঠাৎ করে একই ধরনের অভিযোগ একাধিক নামে দাখিল হওয়া সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সেরেস্তাদার মোঃ মামুনুর রশিদ বাঁধন বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের প্রতি তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং তিনি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ করার অধিকার থাকলেও তা অবশ্যই তথ্য-প্রমাণভিত্তিক হতে হবে। বেনামি বা মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে কাউকে হয়রানি করা হলে বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ অপরাধ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
বর্তমানে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় নিয়ে তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।

