জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইউক্রেনে চলতি বছরের মে মাসে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এক মাসে এত বেশি ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা আর দেখা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, মে মাসে অন্তত ২৭৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১ হাজার ৭৬৩ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১২ জুন) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২২ সালের এপ্রিলের পর এটিই এক মাসে সবচেয়ে বেশি বেসামরিক হতাহতের ঘটনা। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় হতাহতের সংখ্যা প্রায় ৯৩ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে ১৯১ জন নিহত এবং ৮৬৫ জন আহত হয়েছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মিলিয়ে মোট হতাহতের প্রায় ৪৫ শতাংশ ঘটেছে। এর বড় অংশ কিয়েভ ও দনিপ্রোসহ যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরের শহরগুলোতে সংঘটিত হয়েছে।
এছাড়া সামনের সারির যুদ্ধাঞ্চলে স্বল্প-পাল্লার ড্রোন হামলা এখন বেসামরিক হতাহতের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। শুধু মে মাসেই এসব হামলায় ৬৪ জন নিহত এবং ৫৩৯ জন আহত হয়েছেন, যা এক মাসে সর্বোচ্চ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনে ১৬ হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৪৬ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন।
তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলে প্রবেশাধিকার সীমিত থাকায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

