আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ বন্ধে এক ঐতিহাসিক ও নাটকীয় মোড় নিতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ক। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী রোববার (১৪ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হতে পারে। এই ঐতিহাসিক চুক্তির সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। পশ্চিমা একটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে।
শনিবারে চূড়ান্ত হবে খসড়া, রোববারে সই
সূত্রটি জানায়, সমঝোতা স্মারকের বিষয়বস্তু নিয়ে এখনও নিবিড় আলোচনা চলছে। আগামী শনিবারের (১৩ জুন) মধ্যে দুই পক্ষই খসড়া চূড়ান্ত করতে চায়। এরপর রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ নিজ নিজ দেশের পক্ষে এই চুক্তিতে সই করতে পারেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার পরিকল্পনা বাতিল করা হচ্ছে। কারণ হিসেবে তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে চুক্তিটি এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
ইরানের ‘বড় জয়’, ট্রাম্পের প্রাপ্তি কেবল হরমুজ প্রণালি
শুক্রবার (১২ জুন) ইরানি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খসড়া চুক্তিতে তেহরান তার দীর্ঘদিনের দাবিগুলোর বেশিরভাগই আদায় করতে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন তার কাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলোর মধ্যে কেবল হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পেরেছে। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন হামলার পর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, এই খসড়া চুক্তির আওতায়:
ইরানের তেলের ওপর আরোপিত সব মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলারের তহবিল মুক্ত করা হবে।
লেবাননসহ সব ফ্রন্টে (বিশেষ করে ইসরায়েলি) হামলা ও উসকানি বন্ধ করতে হবে।
পারমাণবিক ইস্যু এখন নয়: এই সমঝোতা স্মারকে পারমাণবিক ইস্যুতে সুনির্দিষ্ট কোনও ধারা থাকছে না। বিষয়টি পরের আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন চায় ইরান যেন কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার নিশ্চয়তা দেয়, যদিও তেহরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে তারা এমন কোনও চেষ্টা করছে না।
৩০০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ ও সেনা প্রত্যাহারের শর্ত
এদিকে ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, এই চুক্তির শর্তে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও কিছু বড়
ধরনের ছাড় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
১. ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহারের অঙ্গীকার।
২. যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানি অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা উপস্থাপন।
মেহরের প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ‘ইরানের পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল আর্থিক পরিকল্পনা জমা দিতে হবে।’
তবে এই বিপুল ছাড়ের বিনিময়ে ইরান শেষ পর্যন্ত কী দিতে যাচ্ছে, সে বিষয়ে রয়টার্সের সূত্রটি কিছু জানায়নি। একই সাথে এই পুরো বিষয়টিতে হোয়াইট হাউজ বা মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

