একই দিনে দেশের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধন ও জাতীয় বাজেট উপস্থাপন। তবে এসব বড় ঘটনার ভিড়েও নিজেদের কৃতিত্বের আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে টাইগাররা। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। তবে শুরুতেই বাংলাদেশের বোলিং তোপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে সফরকারীরা। কোনো রান না তুলেই তিন উইকেট হারিয়ে লজ্জার এক রেকর্ড গড়ে তারা। ওয়ানডে ইতিহাসে ১,০২৪ ম্যাচ খেলার পর এই প্রথম শূন্য রানে তিন উইকেট হারানোর ঘটনা ঘটল অস্ট্রেলিয়ার।
তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের দারুণ বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়া দ্রুত ছয় উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়। পরে জেভিয়ার বার্টলেট ও মার্নাস লাবুশেন সপ্তম উইকেটে ১০৩ রানের জুটি গড়ে দলকে কিছুটা স্বস্তি দেন। তবে শেষ পর্যন্ত ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রানেই থামে অজিদের ইনিংস।
বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন ও মোস্তাফিজ তিনটি করে এবং তানভীর ইসলাম দুটি উইকেট শিকার করেন।
বৃষ্টির কারণে খেলা কিছু সময় বন্ধ থাকার পর ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে বাংলাদেশের লক্ষ্য নির্ধারিত হয় ১৯২ রান।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই তানজিদ হাসান তামিমের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তবে সৌম্য সরকার ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৮৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নেন। সৌম্য ৪২ রান করে আউট হন, পরে শান্তও ৪২ রান করে ফিরে যান। তবে এই ইনিংস খেলেই ওয়ানডে ক্রিকেটে ২ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন শান্ত।
লিটন দাস ২১ রান করে আউট হওয়ার পর মোসাদ্দেক হোসেনও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ১৪৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
তবে সেই চাপ সামাল দেন তাওহীদ হৃদয় ও মেহেদী হাসান মিরাজ। পরিণত ব্যাটিংয়ে দুজন দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। হৃদয় ৪০ এবং মিরাজ ২২ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। তাদের দৃঢ়তায় ৩৬ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে ৩৮ বছরের ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোনো সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। এর আগে ২০০৫ সালে কার্ডিফে আশরাফুলের ঐতিহাসিক ইনিংসে একমাত্র জয় পেয়েছিল টাইগাররা। দুই দশক পর সেই স্মৃতিকে ছাড়িয়ে এবার পুরো সিরিজই নিজেদের করে নিল বাংলাদেশ।
একই সঙ্গে সব প্রতিপক্ষ মিলিয়ে ঘরের মাঠে টানা পঞ্চম ওয়ানডে সিরিজ জয়ের কৃতিত্বও অর্জন করল টাইগাররা।

