কানাডার জাতীয় বিমান সংস্থা এয়ার কানাডার এক পাইলটের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে জাল লাইসেন্সের তথ্য ব্যবহার করে যাত্রীবাহী বিমান পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত জিওফ্রি ওয়াল (৫৯) অন্টারিও প্রদেশের বাসিন্দা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হওয়ার পর থেকেই তিনি প্রয়োজনীয় যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে ভুয়া নথি ব্যবহার করে আসছিলেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণাসহ একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরপরই জিওফ্রি ওয়ালকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় এয়ার কানাডা। একই সঙ্গে বিমান সংস্থাটি স্বেচ্ছায় কানাডার পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ট্রান্সপোর্ট কানাডাকে বিষয়টি অবহিত করে।
এয়ার কানাডার দাবি, এই ঘটনায় যাত্রীদের নিরাপত্তা কোনো সময় ঝুঁকির মুখে পড়েনি। কারণ সংস্থার সব পাইলটকে নিয়মিত ছয় মাস অন্তর দক্ষতা মূল্যায়ন ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
পিল রিজিওনাল পুলিশের ডেপুটি চিফ নিক মিলিনোভিচ জানান, ওয়াল ১৯৯৮ সালে এয়ার কানাডায় যোগ দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, ২০০৯ সাল থেকে ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য বাধ্যতামূলক এয়ারলাইন ট্রান্সপোর্ট পাইলট লাইসেন্স (এটিপিএল) ছাড়াই তিনি ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছিলেন।
এটিপিএল অর্জনের জন্য নির্ধারিত লিখিত পরীক্ষা ও অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন। তদন্ত কর্মকর্তারা বিষয়টিকে এমন একজন চিকিৎসকের সঙ্গে তুলনা করেছেন, যিনি প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ লাইসেন্স ছাড়া জটিল অস্ত্রোপচার করছেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, গত ১৭ বছরে তিনি বোয়িংসহ বিভিন্ন ধরনের উড়োজাহাজ পরিচালনা করে প্রায় ৯০০টি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সম্পন্ন করেছেন। এ সময় তিনি মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
গত বছর নিয়মিত এক মূল্যায়নের সময় তার লাইসেন্স সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরে ট্রান্সপোর্ট কানাডার তদন্ত এবং পুলিশের অনুসন্ধানে নথিপত্র জাল হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।
চলতি মাসের শুরুতে তার বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতারণা, জাল নথি তৈরি এবং ভুয়া পরিচয় ব্যবহার।
এয়ার কানাডা জানিয়েছে, ওয়ালের বৈধ বাণিজ্যিক পাইলট লাইসেন্স থাকলেও ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় এটিপিএল তার ছিল না। সংস্থাটি আরও বলেছে, অভ্যন্তরীণ অডিটে অন্য কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পুলিশের ভাষ্য, এ ধরনের প্রতারণা অনেক সময় দীর্ঘদিন ধরা পড়ে না, কারণ অভিযুক্তরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নিজেদের কার্যক্রম আড়াল করে রাখে।
আগামী ২৯ জুন আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে অভিযুক্ত জিওফ্রি ওয়ালের।

