জাবেদ শেখ, জেলা প্রতিনিধি:
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক ব্যতিক্রমী ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের প্রধান প্রবেশপথের কাছাকাছি একটি নির্দিষ্ট এলাকায় কয়েকদিন ধরে মাটির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় কৌতূহল ও উদ্বেগ দুটোই ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাসপাতাল চত্বরে প্রায় ৫০ ফুটজুড়ে বিস্তৃত একটি অংশে মাটির নিচ থেকে অস্বাভাবিক তাপ অনুভূত হচ্ছে। বিষয়টি প্রথমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে।
ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগ ও প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মাটিতে গর্ত করে পানি প্রয়োগের মাধ্যমে তাপমাত্রা কমানোর চেষ্টা চালান। তবে একাধিকবার পানি দেওয়ার পরও মাটির গভীর স্তর থেকে তাপ নির্গমনের অনুভূতি পুরোপুরি দূর হয়নি বলে জানা গেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগী, চিকিৎসাকর্মী ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলীরা এলাকাটি পরীক্ষা করে প্রাথমিকভাবে কোনো বিদ্যুৎ লিকেজ বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির প্রমাণ পাননি। তারপরও সতর্কতার অংশ হিসেবে আশপাশের বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা বলছেন, সাধারণ কোনো কারণের চেয়ে বিষয়টি কিছুটা ব্যতিক্রমী মনে হচ্ছে। কারণ মাটিতে পানি দেওয়ার পরও গভীর স্তরে তাপের উপস্থিতি অনুভূত হচ্ছে। ফলে প্রকৃত কারণ নির্ধারণে বিশেষজ্ঞদের সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটির উৎস শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কারিগরি মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
বর্তমানে রহস্যময় এ ঘটনাকে ঘিরে গোসাইরহাটজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে মাটির নিচে তাপ সৃষ্টির প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

