ঈদুল আজহার পর দেশের স্বর্ণের বাজারে ক্রেতাদের জন্য এলো বড় স্বস্তির খবর। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক লাফে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমানো হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। নতুন এই মূল্যতালিকা আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর করা হয়েছে।নতুন দামের বিবরণবাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম কমে যাওয়ার কারণে দেশের বাজারে স্বর্ণের মূল্য পুনরায় নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন মূল্যহার অনুযায়ী প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নিচে দেওয়া হলো:স্বর্ণের মান (ক্যারেট)নতুন মূল্য (প্রতি ভরি)২২ ক্যারেট২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা২১ ক্যারেট২ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৩ টাকা১৮ ক্যারেট১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৪ টাকাসনাতন পদ্ধতি১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকাকয়েক দিনে মোট কমল ৮,৭৪৮ টাকাএর আগে গত ২ জুনও দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস।
সেই সময় ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩৪ thousand ৮৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এই দুই দফা মূল্যহ্রাসের ফলে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম সর্বমোট ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা কমল।স্বর্ণের বাজারে রেকর্ড ওঠানামাচলতি ২০২৬ সালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে নজিরবিহীন ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাজুসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত সর্বমোট ৭১ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ৩৭ বার এবং কমানো হয়েছে ৩৪ বার। অন্যদিকে, বিগত ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বেড়েছিল এবং ২৯ বার কমেছিল।বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের পরিবর্তন, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় বাজারে কাঁচা স্বর্ণের সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর দেশের বাজারের এই মূল্য পরিবর্তন নির্ভর করে। পরপর দুই বার বড় অংকের এই মূল্যহ্রাস যারা নতুন করে স্বর্ণালংকার কেনার পরিকল্পনা করছেন, সেইসব ক্রেতাদের মনে বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে।

