সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার):
স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে দেশের শীর্ষ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর কাতারে স্থান করে নিয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) হেলথ সিস্টেমস পারফরম্যান্স মেজারমেন্ট ড্যাশবোর্ডে প্রকাশিত সর্বশেষ মূল্যায়নে হাসপাতালটি সারা দেশে সপ্তম স্থান অর্জন করেছে। একই সঙ্গে মৌলভীবাজার জেলার মধ্যে প্রথম স্থান লাভ করে নতুন এক মাইলফলক স্থাপন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী,সেবার মান, রোগীসেবার পরিধি,স্বাভাবিক প্রসবের সংখ্যা, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা,জনসংখ্যা অনুপাতে সেবাদান,অবকাঠামোগত সক্ষমতা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সূচকের ভিত্তিতে পরিচালিত ২০২৫ সালের আগস্ট মাসের মূল্যায়নে এ সাফল্য অর্জিত হয়।
উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার এ অগ্রগতির পেছনে মাতৃস্বাস্থ্যসেবায় হাসপাতালটির বিশেষ অবদান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৭২৬টি স্বাভাবিক প্রসব এবং ১১৩টি সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। স্বাভাবিক প্রসবের সংখ্যার বিচারে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বর্তমানে শুধু মৌলভীবাজার জেলায় নয়,পুরো সিলেট বিভাগের মধ্যেও শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন বলেন,“বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আমরা মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করছি। স্বাভাবিক প্রসবের ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান জেলা ও বিভাগের মধ্যে প্রথম। এই অর্জন চিকিৎসক,নার্স,স্বাস্থ্যকর্মী এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”
তবে সাফল্যের পাশাপাশি নানা সংকটের মধ্য দিয়েই হাসপাতালটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অনুমোদিত ৩৯ জন চিকিৎসকের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৬ জন। এছাড়া বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় ৭৭টি পদ শূন্য রয়েছে। এক্স-রে,ইসিজি ও আল্ট্রাসনোগ্রাফিসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেবায় জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকটও বিদ্যমান।
মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন,“শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই অর্জন শুধু উপজেলার নয়, পুরো জেলার জন্য গর্বের বিষয়। সীমিত জনবল ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। এরই স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে এ সাফল্য এসেছে। প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে হাসপাতালটি ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম সেরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হিসেবে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করবে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে,শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই সাফল্য প্রমাণ করে যে দক্ষ ব্যবস্থাপনা,আন্তরিকতা ও সেবামুখী মানসিকতা থাকলে সীমিত সম্পদ নিয়েও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। জনবল ও অবকাঠামোগত ঘাটতি দূর করা গেলে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় পর্যায়ে আরও উচ্চ অবস্থানে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

