মোঃ ফয়সাল খন্দকার, মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক-এর নেতৃত্বে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান এবং জনসেবামূলক কার্যক্রম জোরদার হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে জনআস্থা বাড়ছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ওসি হাফিজুর রহমান মানিক থানাকে দালালমুক্ত, জনবান্ধব ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ করছেন। থানায় আগত সেবা প্রত্যাশীদের অভিযোগ গুরুত্বসহকারে শোনা, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীদের প্রতি মানবিক আচরণের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মতলব দক্ষিণ থানা এলাকায় হত্যা, মাদক, চুরি, জুয়া, বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ওসির নির্দেশনায় পুলিশ সদস্যরা দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হচ্ছেন।
এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হাট-বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। ঈদ ও পূজাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
থানা সূত্রে জানা যায়, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে মোট ৫২ জন পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া নিয়মিত মামলায় ৫০ জন এবং মাদক মামলায় ৬৫ জন আসামিকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে ৬ হাজার ৩৬১ পিস ইয়াবা ও ৪ কেজি ১৭৬ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
মাদকবিরোধী অভিযানে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। অভিযানে একাধিক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া চুরি, ডাকাতি, দস্যুতা ও কিশোর গ্যাং দমনে পরিচালিত অভিযানে ২৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একটি ডাকাতি ও একাধিক মাদক মামলার আসামিকেও আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশের দ্রুত অভিযানে একাধিক আলোচিত মামলার রহস্য উদঘাটনের ঘটনাও ঘটেছে। গত ৩০ মার্চ ২০২৬ নারায়ণপুর এলাকার একটি হত্যা মামলায় পলাতক আসামিকে সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকা থেকে মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হয়।
অপরদিকে, ডিএমপি বিমানবন্দর থানার চুরির মামলায় ২২ হাজার সৌদি রিয়াল উদ্ধারেও মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধার করা হয়।
মাদক নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাও করা হয়েছে। বিভিন্ন অভিযানে কারাদণ্ডসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ওসির নেতৃত্বে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি ও ধারাবাহিক অভিযানের কারণে এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

