মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি:
যশোরের বেনাপোল ও শার্শা উপজেলায় তীব্র দাবদাহের কারণে জনপ্রিয় গ্রীষ্মকালীন ফল তালশাঁসের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। জ্যৈষ্ঠ মাসের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে বাজারে বিভিন্ন মৌসুমি ফলের সমারোহ দেখা গেলেও গরম থেকে স্বস্তি পেতে মানুষের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে তালশাঁস।
বেনাপোলের বিভিন্ন বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ঘুরে দেখা যায়, ভ্যানগাড়ি ও অস্থায়ী দোকানে তালশাঁস বিক্রি করছেন অসংখ্য বিক্রেতা। শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও পথচারীরা প্রচণ্ড গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে তালশাঁস কিনছেন।
স্থানীয় বিক্রেতারা জানান, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল থেকে তাল সংগ্রহ করে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। চলমান তাপপ্রবাহে তালশাঁসের বিক্রি কয়েকগুণ বেড়েছে।
রেলস্টেশন রোড ও বেনাপোল হাইস্কুলসংলগ্ন এলাকায় তালশাঁস বিক্রেতা রেজাউল জানান, প্রতি পিস তালশাঁস ৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। একটি তালে সাধারণত তিনটি শাঁস থাকায় একটি তাল ১৫ টাকায় বিক্রি করা হয়। তিনি প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ পিস তালশাঁস বিক্রি করেন।
তিনি বলেন, “গরমের সময় তালশাঁসের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। ছোট-বড় সব বয়সের মানুষই এটি খেতে পছন্দ করেন। এবার গরম বেশি হওয়ায় বিক্রিও বেড়েছে।”
ডিহি, লক্ষণপুর, নিজামপুর ও বাজারসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায়ও তালশাঁস বিক্রি করতে দেখা গেছে। কেউ ভ্যানে, আবার কেউ রাস্তার পাশে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে ব্যবসা করছেন।
শার্শা এলাকায় নির্মাণশ্রমিক মোহাম্মদ আলী বলেন, “সারাদিন রোদের মধ্যে কাজ করতে হয়। গরমে শরীর ক্লান্ত হয়ে যায়। তালশাঁস খেলে শরীর ঠান্ডা লাগে এবং কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়।”
নাভারণ বাজারে কেনাকাটা করতে আসা আকিজ কলেজের শিক্ষার্থী রাইয়ান বলেন, “প্রচণ্ড গরমে তালশাঁস খুবই আরাম দেয়। এটি যেমন সুস্বাদু, তেমনি শরীরের জন্যও উপকারী। তাই সুযোগ পেলেই খাই।”
স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসে তালকে ঘিরে এ অঞ্চলের বাজারগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং অনেকের জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে তাল ব্যবসা ভূমিকা রাখে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, “তাল একটি পুষ্টিকর ফল। এতে ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে, যা শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়তা করে। গত বছর উপজেলায় তালগাছের সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার ৯২২টি। নতুন ১ হাজার ২০০টি গাছ রোপণের ফলে বর্তমানে মোট তালগাছের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ১২২টি।”
তিনি আরও বলেন, চলমান তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে তালশাঁসের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে।

