স্টাফ রিপোর্টার, আব্দুস সালাম মোল্লা:
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় জমি, বসতভিটা ও গাছকাটা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে কাজী সিরাজুল ইসলাম (৫৬) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিত হামলায় তাকে হত্যা করা হয়েছে।
সোমবার (২ জুন) সকাল ১১টার দিকে সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চরচাঁদপুর গ্রামের কাজী ডাঙ্গী এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. রেজুয়ান দীপু, সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন শাহ এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবুল কালাম আজাদ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আজহার পরদিন শুক্রবার বিকেলে গাছকাটা নিয়ে বিরোধের জেরে কাজী সিরাজুল ইসলাম ও তার ভাতিজা কাজী মাসুদ রানার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় তারা গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে দুজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক কাজী সিরাজুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মাসুদ রানা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত কাজী সিরাজুল ইসলাম চরচাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং কাজী ইসমাইল হকের ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন এবং ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
পারিবারিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বসতভিটা ও জমি নিয়ে আত্মীয়স্বজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ বিষয়ে অতীতে স্থানীয়ভাবে সালিশও অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় উত্তেজনা অব্যাহত ছিল।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিরোধপূর্ণ জমিতে গাছ কাটার প্রতিবাদ করায় তার ওপর হামলা চালানো হয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সালমা আক্তার বাদী হয়ে সদরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

