মো. তৌহিদুর রহমান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপ বাড়ায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচলের অভিযোগ উঠেছে। ধারণক্ষমতার বাইরে যাত্রী বহন করা হলেও ঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার (১ জুন) দুপুরে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটে সরেজমিনে দেখা যায়, একাধিক লঞ্চে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। এমভি আরাফাত লঞ্চে ধারণক্ষমতা ১৩০ জন হলেও সেখানে ২০০ জনের বেশি যাত্রী ছিল বলে দেখা যায়। এমভি ব্ল্যাকবার্ডে ১২১ জনের স্থলে প্রায় ১৮০ জন এবং এমভি তিতাসে ১৪৮ জনের স্থলে প্রায় ১৬০ জন যাত্রী নিয়ে পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
লঞ্চের ভেতরে ও ডেকে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ঈদের ছুটি শেষে দ্রুত কর্মস্থলে ফেরার তাগিদে অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছেন বলে জানান।
পাটুরিয়াগামী যাত্রী আরিফুল ইসলাম বলেন, “লঞ্চের ডেক ও ভেতরে গাদাগাদি করে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দায় কে নেবে?”
আরেক যাত্রী রইচ উদ্দিন বলেন, “লঞ্চে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জামও চোখে পড়েনি। অতিরিক্ত যাত্রী বহন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা থাকলেও লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। তারা তদারকি ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর আরিচা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন বলেন, “লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কোনো সুযোগ নেই। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘাটে আমাদের টিম নিয়মিত তদারকি করছে।”
নৌপুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ফরিদপুর অঞ্চল) সাজিদ হোসেন বলেন, “অতিরিক্ত যাত্রী বহন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নিরাপদ নৌযাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

