নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী:
নরসিংদী সদর উপজেলার শিলমান্দী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ১২ বছর বয়সী এক শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুর ওপর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত আব্দুল বাসেদ মিয়া (৫৩) একজন মিশুক চালক বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অভিযোগের পর স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে শিশুটির শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময় তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে শ্লীলতাহানি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভয়ে ও প্রাণনাশের হুমকির কারণে শিশুটি এতদিন বিষয়টি কাউকে জানাতে পারেনি।
ভুক্তভোগীর মা তাসলিমা বেগম জানান, একদিন অভিযুক্ত ব্যক্তি তার সামনেই শিশুটিকে হাত ধরে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি বাধা দেন। পরে শিশুটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং ঘটনার বিস্তারিত জানায়।
ভুক্তভোগীর বড় বোন বলেন, “আমাদের সামনেই তাকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। আমরা বাধা দিলে বলা হয় তাকে আম দেওয়া হবে। পরে আমার বোনকে আলাদা করে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, বাসেদ মিয়া তাকে কলাখেত, বাঁশঝাড়সহ বিভিন্ন নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে অনৈতিক আচরণ করেছে। বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।”
তিনি আরও জানান, ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্তের স্ত্রীকে অবহিত করা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, “আমি বাইরে কাজে ছিলাম। পরে ফোনে বিষয়টি জানতে পারি। স্থানীয়ভাবে সালিস হলেও কোনো সুষ্ঠু সমাধান হয়নি, বরং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।”
ভুক্তভোগী শিশুটি জানায়, “বাসেদ ভাই আমাকে কলাখেতে আর বাঁশঝাড়ে নিয়ে গেছে। কাউকে বললে মেরে ফেলবে বলে ভয় দেখিয়েছে। তাই এতদিন কিছু বলিনি।”
এদিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ কোনোভাবেই সামাজিক সালিসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত নয়, বরং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে অভিযুক্ত আব্দুল বাসেদ মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

