মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ সীমান্তে বেনাপোল দিয়ে ১০ জন নারী-পুরুষকে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
সোমবার গভীর রাতে বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুর এলাকার মাঠসংলগ্ন অংশে কাঁটাতারের বেড়া খুলে কয়েকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। এ সময় বিজিবি সদস্যরা সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করলে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করাতে পারেনি।
যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানা গেছে, রাতের আঁধারে সীমান্তের ফ্লাডলাইট বন্ধ করে কিছু মানুষকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালানো হয়। বিজিবি সদস্যরা সীমান্তে টহল ও নজরদারি জোরদার করলে বিএসএফের সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়।
সূত্রটি আরও জানায়, বর্তমানে সীমান্তের কাঁটাতারের কাছাকাছি ১০ থেকে ১২ জনকে অবস্থান করিয়ে রাখা হয়েছে। তাদেরও বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খান বলেন, “রাতভর সীমান্ত এলাকায় আমাদের টহল জোরদার ছিল। বিজিবির সতর্ক অবস্থানের কারণে বিএসএফ সাদিপুর খড়ের মাঠ এলাকায় সীমান্ত পিলার ১৯/এস-৬-এর কাছে ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠাতে পারেনি। বর্তমানে তাদের শূন্যরেখায় রাখা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “বিএসএফ যেকোনো স্থান দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আমরাও সতর্ক রয়েছি। কোনোভাবেই তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।”
এদিকে পুশইনের আশঙ্কায় যশোর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খান বলেন, “বিএসএফের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা ৮ থেকে ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু বর্তমানে বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুর এলাকার ভারত-বাংলাদেশ শূন্যরেখায় অবস্থান করছে। বিষয়টি সমাধানে বিএসএফকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এছাড়া সমস্যা নিরসনে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।”

