আগামী অর্থবছরের শুরু, অর্থাৎ ১ জুলাই থেকেই নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে পুনর্গঠিত কমিটি আবার বৈঠক করেছে। সুপারিশ চূড়ান্ত হলে তা দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন বাজেটে পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে মূল বেতন সমন্বয় করা হবে এবং তৃতীয় বছরে ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা যুক্ত হবে। এছাড়া প্রথম পর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন কাঠামোর ৫০ শতাংশ বেতন পাবেন, পরবর্তী বছরে বাকি অংশ কার্যকর করা হবে।
পে-কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, একবারে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতো। তবে বিদ্যমান ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা সমন্বয়ের ফলে অতিরিক্ত ব্যয় কিছুটা কমে এসেছে।
নতুন পে-স্কেলে প্রশাসন, শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্য, বিচার বিভাগসহ সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন বলে জানা গেছে। স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও আলাদা নির্দেশনা থাকতে পারে।
সুপারিশে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি রাখার কথা বলা হয়েছে, যাতে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমানো যায়।
এছাড়া পেনশনভোগীদের জন্যও বড় ধরনের সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। কম পেনশনপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি, মধ্যম পর্যায়ে ৭৫ শতাংশ এবং উচ্চ পেনশনে প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেড ৭৮,০০০ টাকা থেকে ১,৬০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

