বলিউডের ‘শাহেনশাহ’ অমিতাভ বচ্চন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন— গত ১৬ মে থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন একটি খবর ঘিরে নেটদুনিয়ায় রীতিমতো তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। তবে কোটি ভক্তকে আশ্বস্ত করে জানা গেছে, খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব। ৮৩ বছর বয়সী এই মেগাস্টার হাসপাতালে ভর্তি হননি, বরং রুটিন চেকআপ শেষে বর্তমানে নিজের বাড়িতে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন।
আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা যায়, এই গুজবের সূত্রপাত ঘটে বলিউডের আলোচিত বিনোদন সাংবাদিক ভিকি লালওয়ানির একটি পোস্ট থেকে। তিনি সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, অমিতাভ বচ্চন পেটের সমস্যায় ভুগছেন এবং ছেলে অভিষেক বচ্চন তাকে দেখতে হাসপাতালে গেছেন। এই খবর ছড়ানোর পর মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) রাতভর ভক্তদের মাঝে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়।
বুধবার (২০ মে) সকালে বচ্চন পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র এবং মুম্বাইয়ের সংবাদমাধ্যমগুলো আসল তথ্যটি সামনে আনে। জানানো হয়, গত শনিবার মুম্বাইয়ের নানাবতি হাসপাতালে গিয়েছিলেন অমিতাভ বচ্চন। তবে তা কোনো জরুরি বা গুরুতর অসুস্থতার কারণে নয়, ছিল তাঁর নিয়মিত মাসিক স্বাস্থ্যপরীক্ষা (Routine Monthly Check-up)। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা তাকে তখনই বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেন এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখার কোনো প্রয়োজনই পড়েনি।
এমনকি সর্বশেষ রবিবারও বিগবিকে তাঁর মুম্বাইয়ের বিখ্যাত বাসভবন ‘জলসা’র বাইরে চেনা ছন্দে ভক্তদের শুভেচ্ছা জানাতে দেখা গেছে। পরবর্তীতে তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গেছেন, যা তাঁর হাসপাতালে ভর্তি থাকার ভুয়া খবরকে পুরোপুরি মিথ্যা প্রমাণিত করে।
আজ বুধবার (২০ মে) ভোরে নিজের অফিশিয়াল ব্লগে একটি নতুন পোস্টের মাধ্যমে ভক্তদের সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটান বিগবি। বরাবরের মতোই নিজের স্বভাবসুলভ রসিক ও দার্শনিক ভঙ্গিতে গুজব রটনাকারীদের এক হাত নিয়ে শাহেনশাহ লিখেছেন:
“যখন ঈগল চুপ থাকে, তখন টিয়া পাখিরা বেশি কথা বলতে শুরু করে। আমি তো শান্তিতে বাজরার রুটি আর ভাজা সবজি খেয়ে নিলাম, আর এদিকে কাকের দল নানা কথা বলেই যাচ্ছে!”
নেটিজেনরা অমিতাভের এই রূপক মন্তব্যটিকে দারুণভাবে লুফে নিয়েছেন। তাদের মতে, আসল শক্তিমান মানুষ যখন চুপ থাকে, তখন চারপাশের অপপ্রচারকারীরা ডালপালা মেলে; অথচ বিগবি নিজের মতো সুস্থ থেকে খাওয়া-দাওয়া করছেন।
একই ব্লগে নিজের বর্তমান জীবনযাপন ও অনিদ্রা নিয়ে কথা বলেছেন বিগবি। তিনি লিখেছেন, ‘রাত শেষ হয়ে যায়, কিন্তু ঘুম আসে না। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে একজন মানুষের অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। কিন্তু কাজের ব্যস্ততায় সেটি সবসময় সম্ভব হয় না।’
গভীর রাতে ঘুম না এলে তিনি কী করেন, তারও একটি সুন্দর বিবরণ দিয়েছেন। তিনি জানান, রাতের নিস্তব্ধতায় সেতার ও স্লাইড গিটারের ধীরলয়ের শাস্ত্রীয় সংগীত তাকে মানসিক শান্তি দেয়। গভীর রাতে এই সুর শুনেই তিনি চমৎকার সময় পার করেন। প্রিয় নায়কের এই প্রাণবন্ত ব্লগ পোস্ট দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তাঁর কোটি অনুরাগী।

